৬/১৩২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৮৬০ - আগে সালাম করার ফজিলত
সালাম দেওয়ার পদ্ধতি
প্রথমে যে সালাম দেবে তার এরূপ বলা (উচিত), ‘আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ’। এটা মুস্তাহাব। সে বহুবচন সর্বনাম ব্যবহার করবে; যদিও যাকে সালাম দেওয়া হয় সে একা হোক না কেন। আর সালামের উত্তরদাতা বলবে ‘অআলাইকুমুস সালামু অরহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ, অর্থাৎ সে শুরুতে সংযোজক অব্যয় ‘অ’ বা ‘ওয়া’ শব্দ ব্যবহার করবে।
আগে সালাম করা: আল্লাহর নৈকট্যের সুন্দর আমল
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/৮৬০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/৮৬০
وَعَنْ أَبي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: إِنَّ أوْلَى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأَهُمْ بالسَّلاَمِ رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ، ورواه الترمذي بنحوه وقال: حديثٌ حسن. وَقَدْ ذُكر بعده
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম করে।’’ (আবূ দাঊদ সহীহ সনদ যোগে, তিরমিযীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ও বলেছেন হাদীসটি হাসান। এটি পরবর্তীতে ৮৬৩ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে।)[১]
আবূ দাউদ ৫১৯৭, তিরমিযী ২৬৯৪, আহমাদ ২১৬৮৮, ২১৭৭৬, ২১৮১৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৮৬০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সালাম। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম করে। অর্থাৎ সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আগে এগিয়ে আসা একটি সুন্দর গুণ। অনেক সময় মানুষ অপেক্ষা করে—অন্যজন আগে সালাম দিক। কিন্তু এই হাদিস মুসলিমকে বিনয়ী ও অগ্রগামী হতে শেখায়। আগে সালাম করলে অহংকার কমে, সম্পর্ক সহজ হয় এবং ভালোবাসা বাড়ার পথ তৈরি হয়। হাদিসে সালামের ভাষা বা দীর্ঘ আলোচনা নেই; মূল শিক্ষা হলো, সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আগে শুরু করা। তাই পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী, সহকর্মী বা পথের মানুষ—যেখানে উপযুক্ত, সেখানে আগে সালাম করা মুসলিমের সুন্দর চরিত্রের প্রকাশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আগে সালাম করা আল্লাহর নৈকট্যের কারণ হিসেবে এসেছে।
- সালামে আগে এগিয়ে আসা বিনয়ের লক্ষণ।
- অন্যের অপেক্ষা না করে নিজে সালাম শুরু করা ভালো।
- সালাম সম্পর্ক সহজ ও সুন্দর করতে সাহায্য করে।
