১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৪১ - নম্র স্বভাব ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার শিক্ষা
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
নম্র স্বভাবের ফজিলত: শান্ত ও হিতৈষী চরিত্রের হাদিস
সিলসিলা সহিহা : ৪১
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ৪১
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের ঐ ব্যক্তির সংবাদ দিব না? যে (জাহান্নামের) আগুনের জন্য হারাম অথবা যার জন্য (জাহান্নামের) আগুন হারাম? (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন) প্রত্যেক হিতৈষী, নম্র ও শান্তের জন্য (জাহান্নামের আগুন হারাম)। (আস্-সহীহাহ-৯৩৮)
তিরমিযী- ২/৮০; ইবনু হিব্বান- ১০৯৬, ১০৯৮; আল-খারায়িতী ‘মাকারিমুল আখলাক্ব’ ১১, ২৩; আহমাদ-১/৪১৫; তাবারানীর ‘আল-মুজামুল কাবীর’ ৩/৮৩/২; আবূল কাশেম কুশায়রী ‘আল-আরবাঈন’ ১/১৯২; বাগাভী ‘শরহে সুন্নাহ’ ১/৯৪। শাইখ আলবানী (রহঃ) বিভিন্ন সানাদে বর্ণিত হাদীসগুলো দুর্বলতার উল্লেখ করার পর লেখেন- (আরবী) “উক্ত বাক্যে সম্মিলিতভাবে সাক্ষ্যস্বরূপ হাদীসটি সহীহ্- আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।” হাদীসটি সহীহ্।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
- প্রকাশক:
- আতিফা পাবলিকেশন্স
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন মানুষের কথা বলেছেন, যার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হতে পারে। এখানে মূল শিক্ষা হলো নম্র স্বভাব, শান্ত আচরণ এবং মানুষের কল্যাণ চাওয়া। একজন হিতৈষী মানুষ অন্যের ক্ষতি চায় না, কথা ও কাজে সহজ থাকে এবং রাগ বা কঠোরতার বদলে কোমল পথ বেছে নেয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, উত্তম চরিত্র শুধু বাহ্যিক ভদ্রতা নয়; বরং অন্তরের কোমলতা ও মানুষের প্রতি ভালো মনোভাবও এর অংশ। তাই পরিবার, সমাজ ও দৈনন্দিন লেনদেনে নম্রতা ধরে রাখা মুমিনের জন্য বড় গুণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের প্রতি হিতৈষী মনোভাব রাখা উত্তম চরিত্রের অংশ।
- নম্র ও শান্ত আচরণ আখিরাতের কল্যাণের কারণ হতে পারে।
- কঠোরতা নয়, কোমলতা মুমিনের আচরণকে সুন্দর করে।
- অন্যের উপকার চাওয়া ও সহজ ব্যবহার করা ইসলামের পছন্দনীয় শিক্ষা।
