১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৪৩ - ক্রোধ নিয়ন্ত্রণই প্রকৃত বীরত্ব
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের হাদিস: প্রকৃত শক্তিশালী কে?
সিলসিলা সহিহা : ৪৩
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ৪৩
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাবী কারীম (ﷺ) এমন সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা পাথর বহন করছিলেন। নাবী (ﷺ) বললেন, এ লোকগুলো কী করছে? তারা (সাহাবীগণ) বললেন, তারা পাথর বহন করছে এর দ্বারা তারা বীরত্ব প্রদর্শন করার ইচ্ছা পোষণ করে থাকে। নাবী (ﷺ) বললেনঃ আমি কি তোমাদের ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দান করব না! যে এদের চেয়ে অধিক বীরত্বের অধিকারী? অথবা এরূপ কোন বাক্য বলেছেন। (উত্তরে রাসূল (ﷺ) জানান) যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (সে-ই সবচেয়ে বড় বীর-বাহাদুর)অপর এক বর্ণনায় এসেছে, নাবী (ﷺ) এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা (পরস্পরে) কুস্তিতে মত্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ কী? তারা (সাহাবীগণ) বললেন, এ অমুক কুস্তিগীর। তার সাথে যে কুস্তিতে লড়ে সে-ই ভূপাতিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি কি তোমাদের ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিব না? যে তার (ঐ কুস্তিগীরের) চেয়ে অধিক শক্তিশালী? (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জবাবে বলেন) ঐ ব্যক্তি যার উপর অন্য ব্যক্তি অত্যাচার করেছে অতঃপর সে রাগ নিয়ন্ত্রণ করেছে। ফলে সে তার শত্রুর উপর বিজয়ী হয়েছে এবং তার শাইত্বনের উপর বিজয়ী হয়েছে এবং তার বন্ধুর শাইত্বনের উপরও বিজয়ী হয়েছে। (আস্-সহীহাহ-৩২৯৫)
বায্যার তাঁর ‘মুসনাদে’ ২/৪৩৮-৩৯/২০৫৩ ও ২০৫৪। ইমাম হায়ছামী (রহঃ) তাঁর ‘মাজমা‘উয যাওয়ায়েদে’ ৮/৬৮ বলেনঃ হাদীস দু’টি বায্যার একই সানাদে বর্ণনা করেছেন। এতে শু‘আয়িব বিন বায়ান ও ইমরান কাত্তান আছেন। উভয়ে ইবনু হিব্বানের নিকট সহীহ্। তবে অন্যান্যরা যঈফ বলেছেন। বাকী বর্ণনাকারীগণ সহীহ্। আমি (আলবানী) বলছি, “বরং এর সানাদ হাসান। যেভাবে হাফিয ইবনু হাজার ‘ফাতহুল বারী’তে (১০/৫১৯) বলেছেন।” অতঃপর আলবানী সাক্ষ্যস্বরূপ আরো হাদীস উল্লেখ করেন। হাদীসটি হাসান।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
- প্রকাশক:
- আতিফা পাবলিকেশন্স
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বাহ্যিক শক্তির চেয়ে অন্তরের শক্তিকে বড় করে দেখানো হয়েছে। লোকেরা পাথর বহন বা কুস্তির মাধ্যমে বীরত্ব দেখাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালেন, আসল শক্তিশালী সে, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, কেউ অত্যাচার করলেও যে রাগ দমন করে, সে নিজের শত্রু ও শয়তানের উপর এক ধরনের বিজয় লাভ করে। এখানে মূল কথা হলো, রাগ উঠলে প্রতিশোধ, গালি বা আঘাতের দিকে না গিয়ে নিজেকে সামলানো। এটি দুর্বলতা নয়; বরং বড় আত্মনিয়ন্ত্রণ। দৈনন্দিন জীবনে পরিবার, কাজ, বন্ধুত্ব ও সমাজে এই শিক্ষা খুব প্রয়োজন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা বড় বীরত্বের পরিচয়।
- বাহ্যিক শক্তির চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বেশি মূল্যবান।
- অন্যায় আচরণের মুখেও রাগ দমন করা নেক চরিত্রের অংশ।
- ক্রোধের সময় শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে।
