ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস
মোট হাদিস ০২
ফেরেশতাদের সৃষ্টি, কর্তব্য ও তাদের প্রতি ঈমান সম্পর্কিত হাদিস।
সহিহ বুখারী : ৩৩৩৩
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩৩৩৩
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ وَكَّلَ فِي الرَّحِمِ مَلَكًا، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ نُطْفَةٌ، يَا رَبِّ عَلَقَةٌ، يَا رَبِّ مُضْغَةٌ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْلُقَهَا قَالَ: يَا رَبِّ أَذَكَرٌ، يَا رَبِّ أُنْثَى، يَا رَبِّ شَقِيٌّ أَمْ سَعِيدٌ، فَمَا الرِّزْقُ، فَمَا الأَجَلُ، فَيُكْتَبُ كَذَلِكَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ "
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন। (সন্তান জন্মের সূচনায়) সে ফেরেশতা বলেন, হে রব! এ তো বীর্য। হে রব! এ তো আলাকা। হে রব! এ তো গোশতের খণ্ড। অতঃপর আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান তাহলে ফেরেশতা বলেন, হে রব! সন্তানটি ছেলে হবে, না মেয়ে হবে? হে রব! সে কি পাপিষ্ঠ হবে, না নেককার হবে? তার রিজক কী পরিমাণ হবে, তার আয়ুষ্কাল কত হবে? এভাবে তার মাতৃগর্ভে সব কিছুই লিখে দেওয়া হয়।
(৩১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৮৭,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩০৯৫)
সহিহ বুখারী : ৬৪০৮
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৪০৮
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ لله مَلاَئِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللهَ تَنَادَوْا هَلُمُّوا إِلٰى حَاجَتِكُمْ قَالَ فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلٰى السَّمَاءِ الدُّنْيَا قَالَ فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ مِنْهُمْ مَا يَقُوْلُ عِبَادِي قَالُوا يَقُوْلُونَ يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِّدُونَكَ قَالَ فَيَقُوْلُ هَلْ رَأَوْنِي قَالَ فَيَقُوْلُونَ لاَ وَاللهِ مَا رَأَوْكَ قَالَ فَيَقُوْلُ وَكَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي قَالَ يَقُوْلُونَ لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيدًا وَتَحْمِيدًا وَأَكْثَرَ لَكَ تَسْبِيحًا قَالَ يَقُوْلُ فَمَا يَسْأَلُونِي قَالَ يَسْأَلُونَكَ الْجَنَّةَ قَالَ يَقُوْلُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُوْلُونَ لاَ وَاللهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ يَقُوْلُ فَكَيْفَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُوْلُونَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصًا وَأَشَدَّ لَهَا طَلَبًا وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً قَالَ فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ قَالَ يَقُوْلُونَ مِنْ النَّارِ قَالَ يَقُوْلُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُوْلُونَ لاَ وَاللهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ يَقُوْلُ فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُوْلُونَ لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَارًا وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةً قَالَ فَيَقُوْلُ فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ قَالَ يَقُوْلُ مَلَكٌ مِنْ الْمَلاَئِكَةِ فِيهِمْ فُلاَنٌ لَيْسَ مِنْهُمْ إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ قَالَ هُمْ الْجُلَسَاءُ لاَ يَشْقٰى بِهِمْ جَلِيسُهُمْرَوَاه“ شُعْبَةُ عَنْ الأَعْمَشِ وَلَمْ يَرْفَعْه“ وَرَوَاه“ سُهَيْلٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন, যাঁরা আল্লাহর যিকরে রত লোকদের খোঁজে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। যখন তাঁরা কোথাও আল্লাহর যিকরে রত লোকদের দেখতে পান, তখন ফেরেশতারা পরস্পরকে ডাক দিয়ে বলেন, তোমরা আপন আপন কাজ করার জন্য এগিয়ে এসো। তখন তাঁরা তাঁদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটবর্তী আকাশ পর্যন্ত।তখন তাঁদের প্রতিপালক তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করেন (যদিও ফেরেশতাদের চেয়ে তিনিই অধিক জানেন), ‘আমার বান্দারা কী বলছে?’ তখন তাঁরা বলে, ‘তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিচ্ছে, তারা আপনার গুণগান করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য প্রকাশ করছে।’ তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘তারা কি আমাকে দেখেছে?’ তখন তারা বলবেঃ ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার শপথ! তারা আপনাকে দেখেনি।’ তিনি বলবেন, ‘আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত?’ তাঁরা বলবেন, ‘যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও অধিক পরিমাণে আপনার ইবাদত করত, আরও অধিক আপনার মাহাত্ম্য ঘোষণা করত, আরও অধিক পরিমাণে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।’বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহ বলবেন, ‘তারা আমার কাছে কী চায়?’ তাঁরা বলবে, ‘তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়।’ তিনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘তারা কি জান্নাত দেখেছে?’ ফেরেশতারা বলবেন, ‘না। আপনার সত্তার কসম! হে রব! তারা তা দেখেনি।’ তিনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘যদি তারা দেখত তবে তারা কী করত?’ তাঁরা বলবে, ‘যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরও অধিক লোভ করত, আরও বেশি চাইত এবং এর জন্য আরও বেশি বেশি আকৃষ্ট হত।’আল্লাহ তা'আলা জিজ্ঞেস করবেন, ‘তারা কী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়?’ ফেরেশতাগণ বলবেন, ‘জাহান্নাম থেকে।’ তিনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘তারা কি জাহান্নাম দেখেছে?’ তাঁরা জবাব দেবে, ‘আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা জাহান্নাম দেখেনি।’ তিনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত?’ তাঁরা বলবে, ‘যদি তারা তা দেখত, তাহলে তারা তা থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে অত্যন্ত বেশি ভয় করত।’তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, ‘আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।’ তখন ফেরেশতাদের একজন বলবে, ‘তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে।’ আল্লাহ তা'আলা বলবেন, ‘তারা এমন উপবেশনকারী যাদের মজলিসে উপবেশনকারী বিমুখ হয় না।’শু’বা এটিকে আ’মাশ হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাকে চিনেন না। সুহাইল তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
[মুসলিম ৪৮/৮, হাঃ ২৬৮৯, আহমাদ ৭৪৩০] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৫৩)
