শিরক সম্পর্কিত
মোট হাদিস ০৩
ইসলামে শিরকের অপব্যাখ্যা দূরীকরণ ও এর ভয়াবহতা
পবিত্র কুরআনের সূরা আন'আমের ৮২ নম্বর আয়াত—'যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের দ্বারা কলুষিত করেনি'—নাজিল হওয়ার পর সাহাবীগণের মনে গভীর উৎকণ্ঠা ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল। তারা ভাবছিলেন যে, মানুষ হিসেবে কম-বেশি সকলেই নিজের ওপর কোনো না কোনোভাবে অন্যায় বা জুলুম করে ফেলে, তাহলে কি কারো ঈমানই নিরাপদ নয়? সাহাবীগণের এই মানসিক কষ্ট ও ব্যাকুলতা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরম মমতার সাথে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন। তিনি বুঝিয়ে বলেন যে, এখানে সাধারণ কোনো ভুলের কথা বলা হয়নি; বরং এই 'জুলুম' শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো আল্লাহর সাথে অংশীদার বা শিরক করা। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে তিনি সূরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন, যেখানে লোকমান হাকিম তাঁর সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, আল্লাহর সাথে শিরক করা সবচেয়ে বড় জুলুম। এই হাদিসগুলো আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর একত্ববাদে অবহেলা করা বা শিরকে লিপ্ত হওয়াই ঈমান নষ্টকারী সবচেয়ে বড় অপরাধ, যা থেকে প্রতিটি মুসলিমের সতর্ক থাকা আবশ্যক।
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا نَزَلَتِ {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ﴿ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّنَا لاَ يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ «لَيْسَ كَمَا تَقُولُونَ ﴾لَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ﴿ بِشِرْكٍ، أَوَلَمْ تَسْمَعُوا إِلَى قَوْلِ لُقْمَانَ لاِبْنِهِ ﴾يَا بُنَىَّ لاَ تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴿».
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন্’আম ৮২)।তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুল্ম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুল্ম’ অর্থাৎ শির্ক দ্বারা কলুষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি?তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, “হে বৎস! আল্লাহ্র সঙ্গে কোন রকম শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক একটা বিরাট যুল্ম”। (লুকমানঃ ১৩)
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتِ {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ﴿ قَالَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ أَيُّنَا لَمْ يَلْبِسْ إِيمَانَهُ بِظُلْمٍ فَنَزَلَتْ ﴾لاَ تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ﴿
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াত নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্মের দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন’আম ৮২)।তখন নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে, নিজের ঈমানকে যুল্মের দ্বারা কলুষিত করেনি?তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ আল্লাহর সঙ্গে শরীক করো না। কেননা শির্ক হচ্ছে এক মহা যুল্ম- (লুকমান ১৮)।
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا نَزَلَتِ {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ﴿ شَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّنَا لاَ يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ «لَيْسَ ذَلِكَ، إِنَّمَا هُوَ الشِّرْكُ، أَلَمْ تَسْمَعُوا مَا قَالَ لُقْمَانُ لاِبْنِهِ وَهْوَ يَعِظُهُ ﴾يَا بُنَىَّ لاَ تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴿".
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্মের দ্বারা কলুষিত করেনি। তখন তা মুসলিমদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে যে নিজের উপর যুল্ম করেনি? তখন নবী (ﷺ) বললেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে যুল্মের অর্থ হলো শির্ক। তোমরা কি কোরআনে শুননি লুকমান তাঁর ছেলেকে নাসীহাত দেয়ার সময় কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, “হে আমার বৎস! তুমি আল্লাহ্র সঙ্গে শির্ক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শির্ক এক মহা যুল্ম।
