জ্ঞান এবং কোরআন

মোট হাদিস ০৫

ইসলামে সঠিক জ্ঞান অর্জন ও পবিত্র কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র কোরআন এবং দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা। বর্ণিত হাদিসগুলোতে সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখ থেকে সরাসরি সত্তরের বেশি সূরা শিখেছেন এবং প্রতিটি আয়াত নাজিলের কারণ ও স্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান রাখতেন। ইসলামে ইলমের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, মহান আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকেই দ্বীনের সঠিক বুঝ বা জ্ঞান দান করেন। তবে আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে পৃথিবী থেকে এই খাঁটি দ্বীনি ইলম ক্রমশ উঠে যাবে এবং সমাজে মূর্খদের আধিপত্য তৈরি হবে, যারা মনগড়া ফাতওয়া দিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে। এছাড়া, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নারীদের দ্বীন শিক্ষার জন্য আলাদা দিন ও স্থান নির্ধারণ করে তাদেরও জ্ঞান অর্জনের সমান সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, এই বিবরণগুলো আমাদের বিশুদ্ধভাবে কোরআন জানা এবং যোগ্য আলেমদের থেকে সঠিক দ্বীনি জ্ঞান অন্বেষণ করার প্রতি জোরালো তাগিদ দেয়।

حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ عُثْمَانَ، دَعَا زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدَ بْنَ العَاصِ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ فَنَسَخُوهَا فِي المَصَاحِفِ، وَقَالَ عُثْمَانُ لِلرَّهْطِ القُرَشِيِّينَ الثَّلاَثَةِ: «إِذَا اخْتَلَفْتُمْ أَنْتُمْ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فِي شَيْءٍ مِنَ القُرْآنِ، فَاكْتُبُوهُ بِلِسَانِ قُرَيْشٍ، فَإِنَّمَا نَزَلَ بِلِسَانِهِمْ فَفَعَلُوا ذَلِكَ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘উসমান (রাঃ) যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ), ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন যুবায়র (রাঃ), সা‘ঈদ ইবনুল ‘আস (রাঃ) ও ‘আবদুর রাহমান ইব্‌ন হারিস (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তাঁরা সংরক্ষিত কোরআনকে সমবেতভাবে লিপিবদ্ধ করলেন। ‘উসমান (রাঃ) কুরাইশ বংশীয় তিনজনকে বললেন, যদি যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ) এবং তোমাদের মধ্যে কোন শব্দে মতবিরোধ দেখা দেয় তবে কুরাইশের ভাষায় তা লিপিবদ্ধ কর। যেহেতু কোরআন শরীফ তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তাঁরা তা-ই করলেন।

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ ﴾ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ﴿ ثُمَّ قَالَ عَلَى قِرَاءَةِ مَنْ تَأْمُرُونِي أَنْ أَقْرَأَ فَلَقَدْ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِضْعًا وَسَبْعِينَ سُورَةً وَلَقَدْ عَلِمَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنِّي أَعْلَمُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ وَلَوْ أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا أَعْلَمُ مِنِّي لَرَحَلْتُ إِلَيْهِ .قَالَ شَقِيقٌ فَجَلَسْتُ فِي حَلَقِ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ﷺ فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَرُدُّ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَلاَ يَعِيبُهُ .

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

“আর যে লোক কোন কিছু আত্মসাৎ করবে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে সে উপস্থিত হবে”- (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩:১৬১)।তারপর বললেন, তোমরা আমাকে কার মতো তিলাওয়াতের কথা বলো? আমি তো রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সম্মুখে সত্তরের ঊর্ধ্বে সূরা তিলাওয়াত করেছি। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাহাবাগণ জানেন যে, আমি তাঁদের মাঝে কোরআন সম্বন্ধে সর্বাধিক জানি। যদি আমি জানতাম যে, আর কেউ আমার তুলনায় অধিক কোরআন জানে তবে আমি তাঁর দিকে উটে সওয়ার হয়ে তাঁর কাছে যেতাম। শাকীক (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীদের একাধিক বৈঠকে বসেছি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদের এ কথাকে বাতিল করতে কাউকে শুনিনি এবং তাঁর উপর দোষারোপ করতেও শুনিনি।

ই. ফা. ৬১০৯, ই. সে. ৬১৫১

حَدَّثَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ اسْتَقْرِئُوْا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِيْ حُذَيْفَةَ وَأُبَيٍّ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি নবী (ﷺ) - কে বলতে শুনেছি যে, কোরআন পাঠ শিখ চার জনের নিকট হতেঃ ইব্‌নু মাসউদ, আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই (ইব্‌নু কা’ব) ও মু’আয ইব্‌নু জাবাল (রাঃ) থেকে।

حَدَّثَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَرَأَ رَجُلٌ الْكَهْفَ وَفِي الدَّارِ الدَّابَّةُ فَجَعَلَتْ تَنْفِرُ فَسَلَّمَ فَإِذَا ضَبَابَةٌ أَوْ سَحَابَةٌ غَشِيَتْهُ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ اقْرَأْ فُلَانُ فَإِنَّهَا السَّكِيْنَةُ نَزَلَتْ لِلْقُرْآنِ أَوْ تَنَزَّلَتْ لِلْقُرْآنِ

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক সাহাবী সূরা কাহ্‌ফ তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর বাড়িতে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। ঘোড়াটি তখন লাফালাফি করতে লাগল। তখন ঐ সাহাবী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে দোয়া করলেন। তখন তিনি দেখলেন, একখণ্ড মেঘ এসে তাঁকে ঢেকে দিয়েছে। তিনি নবী (ﷺ) -এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, হে অমুক! তুমি এভাবে তিলাওয়াত করবে। এটা তো প্রশান্তি ছিল, যা কোরআন তিলাওয়াতের কারণে নাযিল হয়েছিল।

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا قُطْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ وَالَّذِي لاَ إِلَهَ غَيْرُهُ مَا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ سُورَةٌ إِلاَّ أَنَا أَعْلَمُ حَيْثُ نَزَلَتْ وَمَا مِنْ آيَةٍ إِلاَّ أَنَا أَعْلَمُ فِيمَا أُنْزِلَتْ وَلَوْ أَعْلَمُ أَحَدًا هُوَ أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللَّهِ مِنِّي تَبْلُغُهُ الإِبِلُ لَرَكِبْتُ إِلَيْهِ .

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই তাঁর কসম! আল্লাহর কিতাবে এমন কোন সূরা নেই যা নাযিল হওয়ার জায়গার ব্যাপারে আমি না জানি, এরূপ কোন আয়াত নেই যার নাযিল হওয়ার স্পষ্ট কারণ আমার অজানা। যদি আমি এমন কোন লোককে জানতাম যিনি আমার তুলনায় অধিক কোরআন জানেন এবং তাঁর নিকট উট যেতে পারে, তবে আমি তার নিকট যাওয়ার জন্য উটে আরোহণ করতাম।

ই. ফা. ৬১১০, ই. সে. ৬১৫২

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন