৪/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ২০০ - প্রতি সালাতে ওযু ও মেসওয়াকের গুরুত্ব
ওযুর প্রতি যত্নশীল হওয়া ও নতুনভাবে ওযু করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করণঃ
মেসওয়াক ও ওযুর গুরুত্ব: উম্মতের প্রতি নবীজির মমতা
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব : ২০০
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিবহাদিস নম্বর ২০০
(حسن صحيح) و عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي، لَأَمَرْتُهُمْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ بِوُضُوءٍ ومَعَ كُلِّ وُضُوءٍ بِسِوَاكٍ. رواه أحمد بإسناد حسن
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “আমার উম্মতের উপর আমি যদি কঠিন মনে না করতাম, তবে তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সময় ওজু করার আদেশ করতাম এবং প্রত্যেক ওজুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”
(হাসান সনদে আহমাদ হাদীসটি রেওয়ায়াত করেন)
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ২০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের প্রতি মমতা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি বলেছেন, যদি উম্মতের উপর কঠিন মনে না করতেন, তবে প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করার আদেশ দিতেন এবং প্রত্যেক ওযুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। এখানে বোঝা যায়, ওযু ও মেসওয়াক দুটিই গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে নবীজি উম্মতের কষ্টের দিকও বিবেচনা করেছেন। তাই এই হাদিস থেকে আমরা মেসওয়াকের ফজিলত এবং ওযুর প্রতি নবীজির উৎসাহ বুঝি, কিন্তু এটিকে এমনভাবে বলা ঠিক নয় যে প্রত্যেক ওযুতে মেসওয়াক বাধ্যতামূলক। বরং হাদিসের ভাষা অনুযায়ী, এটি একটি গুরুত্ববহ ও প্রিয় আমল, যা মুসলিমের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার সাথে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেসওয়াক ওযুর সাথে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে এসেছে।
- নবীজি উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করেছেন।
- প্রত্যেক সালাতে নতুন ওযুর প্রতি উৎসাহ বোঝা যায়, তবে কষ্টকর বাধ্যবাধকতা করা হয়নি।
- পবিত্রতা ও মুখের পরিচ্ছন্নতার দিকে যত্ন নেওয়া উচিত।
