৮/৪০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০২৮ - জানাজার নামাজে তিন কাতারের ফজিলত
জানাযার নামাযের ধরণ ও মৃত ব্যক্তির জন্য সুপারিশ
জানাজার নামাজে তিন কাতার করার ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০২৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০২৮
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، وَيُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَزَنِيِّ، قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ هُبَيْرَةَ إِذَا صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ فَتَقَالَّ النَّاسَ عَلَيْهَا جَزَّأَهُمْ ثَلاَثَةَ أَجْزَاءٍ ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ ثَلاَثَةُ صُفُوفٍ فَقَدْ أَوْجَبَ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأُمِّ حَبِيبَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَمَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مَالِكِ بْنِ هُبَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ هَكَذَا رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ . وَرَوَى إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ وَأَدْخَلَ بَيْنَ مَرْثَدٍ وَمَالِكِ بْنِ هُبَيْرَةَ رَجُلاً . وَرِوَايَةُ هَؤُلاَءِ أَصَحُّ عِنْدَنَا .
মারসাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ইয়াযানী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন মালিক ইবনু হুবাইরা (রাঃ) জানাজার নামাজ আদায় করতেন তখন লোকজনের উপস্থিতি অল্প হলে তাদেরকে তিনি তিন সারিতে ভাগ করতেন। তারপর তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির জানাজার নামাজ তিন কাতার লোক আদায় করেছে তার জন্য (জান্নাত) অবধারিত হয়েছে।
আইশা, উম্মু হাবীবা, আবূ হুরাইরা ও মাইমূনা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মালিক ইবনু হুবাইরা হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান বলেছেন। অনেক বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইব্রাহীম ইবনু সা’দ ও মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি মারসাদ ও মালিক ইবনু হুবাইরার মাঝে আরও একজন বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন। পূর্বোক্ত বর্ণনাই আমার মতে বেশি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মালিক ইবন হুবাইরা রাঃ-এর একটি নিয়মিত আমল বর্ণিত হয়েছে। জানাজার নামাজে লোক কম থাকলে তিনি উপস্থিতদের তিন ভাগে ভাগ করে তিন কাতার বানাতেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বাণী উল্লেখ করতেন যে, যার জানাজা তিন সারি লোক আদায় করেছে, তার জন্য অবধারিত হয়েছে। অনুবাদে বন্ধনীর মধ্যে জান্নাতের কথা উল্লেখ আছে। হাদিসটির মূল বিষয় হলো জানাজার তিন কাতার এবং মৃত ব্যক্তির জন্য সম্মিলিত নামাজের ফজিলত। এখানে লোকসংখ্যা কম হলেও সুন্দরভাবে সারিবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব ফুটে ওঠে। তবে বর্ণনায় তিন কাতারের বাইরে কাতারের সব নিয়ম বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যা শুধু এই আমল ও সুসংবাদের মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত। এই আমল উপস্থিত অল্পসংখ্যক মানুষকেও জানাজার সম্মিলিত ইবাদতে সুন্দরভাবে অংশ নিতে উৎসাহ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লোক কম হলেও জানাজার মুসল্লিদের তিন কাতারে ভাগ করা হয়েছিল।
- তিন সারি মানুষের জানাজায় অংশ নেওয়ার একটি বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
- জানাজার নামাজে শৃঙ্খলাবদ্ধ কাতার গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
