১/৭৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৪ - হাত ধুয়ে ওজুর মতো গোসলের সুন্নাহ
নাপাকির গোসল
নাপাকির গোসলের নিয়ম: ওজুর মতো শুরু করার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১০৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১০৪
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ بَدَأَ فَغَسَلَ يَدَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُمَا الإِنَاءَ ثُمَّ غَسَلَ فَرْجَهُ وَيَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُشَرِّبُ شَعْرَهُ الْمَاءَ ثُمَّ يَحْثِي عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ حَثَيَاتٍ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ أَنَّهُ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُفْرِغُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ يُفِيضُ الْمَاءَ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَالُوا إِنِ انْغَمَسَ الْجُنُبُ فِي الْمَاءِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ أَجْزَأَهُ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নাপাকির জন্য গোসল করতে ইচ্ছা করতেন, তখন পানির পাত্রে হাত দেয়ার আগে উভয় হাত ধোয়ার মাধ্যমে গোসল শুরু করতেন। অতঃপর তিনি লজ্জাস্থান ধুতেন এবং নামাজের ওজুর মত ওজু করতেন। অতঃপর চুলের ভেতরে পানি পৌঁছাতেন এবং মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢালতেন।
আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। বিদ্বানগণ নাপাকির গোসলের এ পদ্ধতিই গ্রহণ করেছেন। প্রথমে নামাযের ওজুর মত ওজু করবে, অতঃপর তিনবার মাথায় পানি ঢালবে, অতঃপর সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করবে, অতঃপর উভয় পা ধুবে। ‘আলিমগণ এ পদ্ধতিই অনুসরণ করেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, নাপাক ব্যক্তি ওজু না করেই যদি পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে তাহলে তার গোসল হয়ে যাবে। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত দিয়েছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) জানাবাতের গোসলের আরেকটি পরিষ্কার চিত্র দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যখন নাপাকির গোসল করতে চাইতেন, তখন পাত্রে হাত দেওয়ার আগে দুই হাত ধুয়ে নিতেন। এরপর লজ্জাস্থান ধুতেন এবং সালাতের ওজুর মতো ওজু করতেন। তারপর চুলের ভেতরে পানি পৌঁছাতেন এবং মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢালতেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ফরজ গোসল শুধু শরীরে পানি ঢেলে শেষ করার বিষয় নয়; নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলে পরিষ্কার ধাপ ছিল। বিশেষ করে হাত ধোয়া, লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা, ওজুর মতো প্রস্তুতি নেওয়া, চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো এবং মাথায় তিনবার পানি দেওয়া—এসব বিষয় এখানে এসেছে। তাই যারা জানাবাতের গোসলের নিয়ম বা গোসলের সুন্নাহ জানতে চান, তাদের জন্য বর্ণনাটি সহজ পথ দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোসলের আগে পাত্রে হাত দেওয়ার পূর্বে হাত ধোয়া বর্ণিত হয়েছে।
- লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা গোসলের শুরুতে এসেছে।
- সালাতের ওজুর মতো ওজু করার পদ্ধতি এসেছে।
- চুলে পানি পৌঁছানো এবং মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢালার কথা আছে।
