৯/১৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১০৩ - সাক্ষী ছাড়া বিয়ের কঠোর সতর্কতা
সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে হতে পারে না
সাক্ষী ছাড়া বিয়ে: গোপন নিকাহের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১০৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১০৩
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْمَعْنِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " الْبَغَايَا اللاَّتِي يُنْكِحْنَ أَنْفُسَهُنَّ بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ " . قَالَ يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ رَفَعَ عَبْدُ الأَعْلَى هَذَا الْحَدِيثَ فِي التَّفْسِيرِ وَأَوْقَفَهُ فِي كِتَابِ الطَّلاَقِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যেসব নারী সাক্ষী ছাড়া নিজেদেরকে বিয়ে দেয় তারা ব্যভিচারিণী, যেনাকারিনী।
ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ বলেন, আবদুল আলা এ হাদীসটি কিতাবুত তাফসীরে মারফূ (রাসূলের কথা) হিসেবে এবং কিতাবুত তালাকে মাওকূফ (ইবনু আব্বাসের কথা) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এমন নারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যারা কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া নিজেদের বিয়ে নিজেরাই সম্পন্ন করে। হাদিসের মূল বিষয় হলো বিয়েতে সাক্ষীর উপস্থিতি এবং নিকাহকে পরিষ্কার ও প্রমাণযোগ্য রাখা। বিয়ে শুধু ব্যক্তিগত বা গোপন সমঝোতা নয়; এটি দায়িত্ব, অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির একটি চুক্তি। সাক্ষী না থাকলে পরে বিয়ে, মহর, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার বা সন্তানের পরিচয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে। তাই বর্ণনাটি সাক্ষীবিহীন গোপন বিয়ের বিপদকে কঠোরভাবে তুলে ধরেছে। তবে হাদিসের ভাষাকে ব্যবহার করে কাউকে তাড়াহুড়ো করে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা ঠিক নয়। সরাসরি শিক্ষা হলো, নিকাহের সময় প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য নিশ্চিত করতে হবে এবং বিয়েকে সন্দেহ, গোপনীয়তা বা অস্বীকারের সুযোগ থেকে দূরে রাখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়েতে সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না।
- গোপন ও সাক্ষীবিহীন নিকাহের বিরুদ্ধে হাদিসে কঠোর সতর্কতা রয়েছে।
- নিকাহকে পরিষ্কার ও প্রমাণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা উচিত।
- হাদিসের কঠোর শব্দ দিয়ে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা উচিত নয়।
