৯/২৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১২০ - হিলা ও হালালা বিয়ের নিষেধ
যে লোক হিলা করে এবং যে লোক হিলা করায়
হিলা বিয়ের নিষেধ: কৌশলী নিকাহ নয়, সত্যিকারের দাম্পত্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১১২০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১২০
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمُحِلَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَأَبُو قَيْسٍ الأَوْدِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَرْوَانَ. وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَغَيْرُهُمْ وَهُوَ قَوْلُ الْفُقَهَاءِ مِنَ التَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ.قَالَ وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ بْنَ مُعَاذٍ يَذْكُرُ عَنْ وَكِيعٍ أَنَّهُ قَالَ بِهَذَا وَقَالَ يَنْبَغِي أَنْ يُرْمَى بِهَذَا الْبَابِ مِنْ قَوْلِ أَصْحَابِ الرَّأْىِ . قَالَ جَارُودٌ قَالَ وَكِيعٌ وَقَالَ سُفْيَانُ إِذَا تَزَوَّجَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ لِيُحَلِّلَهَا ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يُمْسِكَهَا فَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُمْسِكَهَا حَتَّى يَتَزَوَّجَهَا بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে লোক হিলা করে এবং যে লোকের জন্য হিলা করা হয় উভয়কেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অভিসম্পাত করেছেন।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ কাইস আল-আওদীর নাম আবদুর রহমান, পিতা সারওয়ান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ সাহাবীদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনু আফফান, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) প্রমুখ সাহাবী মত দিয়েছেন। এই মত ফিক্হবিদ তাবিঈদেরও। একই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনু মুবারাক, শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাকও। ওয়াকীও একইরকম মত দিয়েছেন এবং বলেছেন, এই বিষয়ে আহলুর রায়ের মত ছুড়ে ফেলে দেয়া কর্তব্য। ওয়াকী বলেন, সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, হিলার উদ্দেশ্যে কোন নারীকে কোন লোক বিয়ে করার পর তাকে নিজের বিবাহধীনে রাখতে চাইলে তা জায়িয নয়। নতুনভাবে এই মহিলার সাথে তার বিয়ে হতে হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১২০-এর সারসংক্ষেপ
এই সহিহ বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সেই ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করেছেন, যে কোনো নারীকে আগের স্বামীর জন্য বৈধ করার উদ্দেশ্যে বিয়ে করে; একইভাবে যার জন্য এই কাজ করা হয় তাকেও অভিসম্পাত করেছেন। এটি দেখায়, নিকাহকে কৌশল, সাময়িক ব্যবস্থা বা পূর্বপরিকল্পিত তালাকের সেতু বানানো ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দিত। তিন তালাকের পর নারী স্বাভাবিকভাবে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তু সেই বিয়ের আসল উদ্দেশ্য যদি শুধু প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে সেটিই হিলা। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, বিয়ের পবিত্রতা ও বাস্তব দায়িত্ব রক্ষা করা। কোনো মানুষকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে শরিয়তের বিধানকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এ সতর্কতা বিয়েকে সৎ উদ্দেশ্যে গ্রহণ করার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিলা করা ব্যক্তি ও যার জন্য হিলা করা হয়—উভয়েই কঠোর সতর্কতার আওতায়।
- নিকাহকে সাময়িক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
- পূর্বপরিকল্পিত তালাকের উদ্দেশ্যে বিয়ে করা হাদিসে নিন্দিত।
- বিয়ের সত্যিকারের দায়িত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
