১০/১১. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৬৩ - স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার

স্বামী-স্ত্রীর অধিকার: ভালো আচরণ, ভরণপোষণ ও পারিবারিক দায়িত্ব

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১১৬৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ "أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٌ عِنْدَكُمْ لَيْسَ تَمْلِكُونَ مِنْهُنَّ شَيْئًا غَيْرَ ذَلِكَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ فَإِنْ فَعَلْنَ فَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلاَ تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً أَلاَ إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا فَأَمَّا حَقُّكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ أَلاَّ يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ وَلاَ يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَمَعْنَى قَوْلِهِ " عَوَانٌ عِنْدَكُمْ " . يَعْنِي أَسْرَى فِي أَيْدِيكُمْ.

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। তোমাদের নিকট তারা বন্দীর মত। তাছাড়া তোমাদের আর কোন অধিকার নেই তাদের উপর, কিন্তু তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয় (তবে ভিন্ন কথা)। তারা যদি তাই করে তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার কর, মারাত্মক প্রহার নয়। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তাহলে তাদেরকে নির্যাতনের অজুহাত খুঁজতে যেও না।জেনে রাখ! তোমাদের যেমন তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি অধিকার আছে, তাদেরও তোমাদের প্রতি ঠিক সেরকমই অধিকার আছে। তাদের প্রতি তোমাদের অধিকার এই যে, তোমরা যাদেরকে পছন্দ কর না তারা যেন সেসব লোককে দিয়ে তোমাদের বিছানা পদদলিত না করায় এবং যেসব লোককে তোমরা মন্দ বলে জান তাদেরকে যেন অন্দর মহলে ঢুকার অনুমতি না দেয়। জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে।

এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। “আওয়ানুন ইনদাকুম" অর্থাৎ 'তোমাদের নিকট বন্দী’।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১১৬৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার স্পষ্ট উপদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, স্বামীর যেমন স্ত্রীর ওপর অধিকার আছে, স্ত্রীরও স্বামীর ওপর অধিকার আছে। স্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে স্বামীর অপছন্দের লোককে দাম্পত্য শয্যা বা ঘরের গোপন পরিসরে সুযোগ না দেওয়া এবং অপছন্দের কাউকে ঘরে ঢুকতে না দেওয়া। অন্যদিকে স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর জন্য ভালো পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা করা। হাদিসে একটি গুরুতর অসদাচরণের অবস্থায় ধাপে ধাপে করণীয় বলা হলেও মারাত্মক আঘাত নিষেধ করা হয়েছে। আবার স্ত্রী অনুগত হলে তাকে কষ্ট দেওয়ার অজুহাত খুঁজতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই এই হাদিসের বড় শিক্ষা হলো দাম্পত্য অধিকার একপাক্ষিক নয়। দায়িত্ব, সংযম, ভরণপোষণ এবং নির্যাতনের পথ বন্ধ রাখা—সবই এর মূল অংশ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই একে অন্যের প্রতি নির্দিষ্ট অধিকার আছে।
  • স্ত্রীর খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব।
  • স্ত্রী সঠিক আচরণে ফিরে এলে তাকে কষ্ট দেওয়ার অজুহাত খোঁজা যাবে না।
  • দাম্পত্য জীবনে ভালো আচরণ ও সীমা রক্ষা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন