১২/৩৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৬৪ - আমানত ফেরত দিন, খিয়ানতের জবাব দেবেন না
আমানতদারী রক্ষা করা
আমানত ফেরত দেওয়া ও খিয়ানত থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৬৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৬৪
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، عَنْ شَرِيكٍ، وَقَيْسٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلاَ تَخُنْ مَنْ خَانَكَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا إِذَا كَانَ لِلرَّجُلِ عَلَى آخَرَ شَيْءٌ فَذَهَبَ بِهِ فَوَقَعَ لَهُ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَحْبِسَ عَنْهُ بِقَدْرِ مَا ذَهَبَ لَهُ عَلَيْهِ . وَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَقَالَ إِنْ كَانَ لَهُ عَلَيْهِ دَرَاهِمُ فَوَقَعَ لَهُ عِنْدَهُ دَنَانِيرُ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَحْبِسَ بِمَكَانِ دَرَاهِمِهِ إِلاَّ أَنْ يَقَعَ عِنْدَهُ لَهُ دَرَاهِمُ فَلَهُ حِينَئِذٍ أَنْ يَحْبِسَ مِنْ دَرَاهِمِهِ بِقَدْرِ مَا لَهُ عَلَيْهِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমার নিকট যে লোক কোন কিছু আমানত রেখেছে তাকে তা ফিরিয়ে দাও। যে লোক তোমার খিয়ানত করেছে তুমি তার খিয়ানত (ক্ষতিসাধন) কর না।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গরীব বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এক লোক নিজের কিছু আমানত রাখল অন্য লোকের নিকট, কিন্তু সে তা ফিরত দিল না। ঘটনাচক্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির হাতে শেষোক্ত ব্যক্তির কোন মাল এসে পড়লো। এক্ষেত্রে সে লোক যে পরিমাণ সম্পদ প্রথমোক্ত ব্যক্তি হতে আত্মসাৎ করেছিল, সেই সম্পদ হতে প্রথমোক্ত ব্যক্তি তার পাওনা পরিমাণ কেটে রাখতে পারবে না, কিন্তু কিছু তাবিঈ কেটে রাখার সম্মতি দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরীও এই মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক লোক কিছু দিরহাম রাখল অন্য লোকের নিকট। সে তা আত্মসাৎ করল। ঘটনাচক্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির হাতে শেষোক্ত ব্যক্তির কিছু দীনার এসে পড়ল। এক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তি তার দিরহামের পরিবর্তে দীনার রাখতে পারবে না। হ্যাঁ ঐ ব্যক্তির দিরহাম যদি তার হাতে আসে তাহলে সে তার দিরহামের সমপরিমাণ দিরহাম কেটে রাখতে পারবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আমানতদারি। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি আপনার কাছে কোনো জিনিস আমানত রেখেছে, তার আমানত তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এমনকি সেই ব্যক্তি আগে আপনার সঙ্গে খিয়ানত করলেও তার সম্পদের সঙ্গে খিয়ানত করা যাবে না। অর্থাৎ অন্যের অন্যায় নিজের অন্যায়কে বৈধ করে না। কেউ অধিকার নষ্ট করলে রাগ, কষ্ট বা প্রতিশোধের ইচ্ছা তৈরি হতে পারে। কিন্তু হাদিসটি ব্যক্তিগত প্রতিশোধ হিসেবে আমানত আটকে রাখা বা ক্ষতি করার পথ বন্ধ করে দেয়। আমানত ফেরত দেওয়া আমানত গ্রহণকারীর নিজের দায়িত্ব। আমানতদারের চরিত্র নির্ভর করবে তার নীতি ও দায়িত্ববোধের ওপর, অপর পক্ষের আচরণের ওপর নয়। তাই ইসলামে বিশ্বস্ততা শুধু ভালো মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের নাম নয়; বিরোধ ও কষ্টের মধ্যেও নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই প্রকৃত আমানতদারি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানত যথাসময়ে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
- কেউ খিয়ানত করলেও প্রতিশোধ হিসেবে তার আমানতের খিয়ানত করা যাবে না।
- অন্যের অন্যায় নিজের দায়িত্ব ও নৈতিকতা বদলে দেয় না।
