১৩/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৪৭ - নিজ সম্পদে পূর্ণ দাসমুক্তি
একটি গোলামের দুইজন অংশীদারের মধ্যে একজন তার নিজের অংশ মুক্ত করে দিলে
শরীকানা দাসকে নিজের সম্পদে সম্পূর্ণ মুক্ত করা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৪৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৪৭
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ أَعْتَقَ نَصِيبًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مِنَ الْمَالِ مَا يَبْلُغُ ثَمَنَهُ فَهُوَ عَتِيقٌ مِنْ مَالِهِ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
সালিম (রহঃ) হতে তার বাবা হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শরীকানা গোলামের ক্ষেত্রে কোন লোক তার নিজের অংশকে মুক্ত করে দিলে এবং তার নিকট গোলামটির মূল্যের সমপরিমাণ মাল থাকলে সে তার (মুক্তকারী মালিকের) মালের সাহায্যে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শরীকানা দাসের একটি অংশ মুক্ত করার পর বাকি অংশের দায়িত্ব কী হবে, তা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিজের মালিকানার অংশ মুক্ত করে দিলে এবং তার কাছে দাসটির পূর্ণ মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকলে, তার সম্পদ থেকেই বাকি অংশের মূল্য দেওয়া হবে এবং দাসটি সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যাবে। এতে বোঝা যায়, সামর্থ্যবান ব্যক্তি শুধু নিজের অংশের মুক্তিতেই থেমে থাকবে না; তার সিদ্ধান্তের পূর্ণ ফল নিশ্চিত করার দায়িত্বও নেবে। একই সঙ্গে অন্য অংশীদারদের আর্থিক অধিকার উপেক্ষা করা হবে না। হাদিসের ভাষায় স্বাধীনতা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হয়েছে। তাই এর মূল শিক্ষা হলো, ভালো কাজের উদ্যোগ নিলে তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক দায়ও সৎভাবে বহন করতে হবে, বিশেষ করে যখন অন্যের অধিকার জড়িত থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকলে বাকি অংশের মূল্য নিজের সম্পদ থেকে দিতে হয়।
- আংশিক মুক্তিকে সম্পূর্ণ মুক্তিতে পৌঁছানোর দায়িত্ব নিতে হয়।
- অন্য অংশীদারের আর্থিক অধিকার নষ্ট করা যাবে না।
- স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ন্যায্য মূল্য পরিশোধের গুরুত্ব রয়েছে।
