১৩/৩৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৭০ - সীমানা ও রাস্তা আলাদা হলে শুফআ নেই
জমির সীমানা নির্ধারিত এবং বন্টিত হওয়ার পর শুফআর অধিকার থাকে না
সীমানা নির্ধারিত হলে শুফআ নেই: আলাদা রাস্তার বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৭০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৭০
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِذَا وَقَعَتِ الْحُدُودُ وَصُرِّفَتِ الطُّرُقُ فَلاَ شُفْعَةَ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ بَعْضُهُمْ مُرْسَلاً عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَبِهِ يَقُولُ بَعْضُ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ مِثْلُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَغَيْرِهِ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِنْهُمْ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَرَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ يَرَوْنَ الشُّفْعَةَ إِلاَّ لِلْخَلِيطِ وَلاَ يَرَوْنَ لِلْجَارِ شُفْعَةً إِذَا لَمْ يَكُنْ خَلِيطًا .وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمُ الشُّفْعَةُ لِلْجَارِ . وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " جَارُ الدَّارِ أَحَقُّ بِالدَّارِ " . وَقَالَ " الْجَارُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ " . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তা আলাদা হয়ে যায় তখন শুফআর আর কোন অধিকার থাকে না।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসটিকে কয়েকজন বর্ণনাকারী আবূ সালামার বরাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক উমার, উসমান (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ আমল করেছেন। এরকমই বলেছেন উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এবং আরো কয়েকজন তাবিঈ ও ফিকহ্বিদ। এই মত দিয়েছেন মাদীনার আলিমগণ তথা ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাইদ আল-আনসারী, রাবীআ ইবনু আবূ আবদুর রাহমান ও মালিক ইবনু আনাসও। শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন। তারা সবাই মনে করেন শুফআ শুধুমাত্র শরীকানা সম্পত্তিতেই দাবি করা যায়। প্রতিবেশী অংশীদার না হলে সে শুফআর দাবি তুলতে পারে না। অন্য একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মতে, শুফআর জন্য প্রতিবেশী দাবি তুলতে পারে। এই মারফু হাদীসকে তারা দলীল হিসেবে নিয়েছেনঃ(১) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “প্রতিবেশী (অপর প্রতিবেশীর) ঘর কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।"(২) "তার নিকট অবস্থানের জন্যই প্রতিবেশী (শুফআর) বেশি হকদার”। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কূফাবাসীগণ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো শুফআর অধিকারের সীমা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যখন সম্পত্তির সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং যাতায়াতের রাস্তা আলাদা হয়ে যায়, তখন শুফআর অধিকার থাকে না। অর্থাৎ শুধু পাশের জমি বা বাড়ি হলেই সব অবস্থায় অগ্রক্রয়ের দাবি তৈরি হয় না। যৌথতা শেষ হয়ে গেলে, সীমানা স্পষ্ট হলে এবং চলাচলের পথ আলাদা হলে প্রত্যেক অংশ স্বতন্ত্র সম্পত্তির রূপ নেয়। এই হাদিস সম্পত্তি বিরোধ মেটাতে খুব পরিষ্কার একটি মানদণ্ড দেয়। কারও শুফা দাবি আছে কি না, তা বোঝার জন্য জমি ভাগ হয়েছে কি না এবং রাস্তা যৌথ নাকি পৃথক—এ দুটি বিষয় দেখতে হবে। তাই দলিল, সীমানা ও ব্যবহারিক পথ পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অধিকার কোথায় শেষ হয়, সেটিও স্পষ্ট করে; ফলে অযথা দাবি ও বিবাদ কমানো সম্ভব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সীমানা নির্ধারিত হলে সম্পত্তির যৌথ অবস্থা শেষ হতে পারে।
- যাতায়াতের রাস্তা আলাদা হলে শুফআর অধিকার থাকে না।
- শুধু প্রতিবেশী হওয়া সব ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়ের দাবি তৈরি করে না।
- সম্পত্তির সীমানা ও রাস্তা পরিষ্কার রাখা বিরোধ কমায়।
