১৩/৪২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৮৫ - বর্গাচাষে দয়া ও সহানুভূতি
(জমি ভাগচাষে দেওয়া অথবা নগদ মূল্যে বিক্রয় জায়িয কিন্তু নিঃস্বার্থভাবে চাষ করতে দেওয়া উত্তম)
বর্গাচাষে দয়া: জমির মালিক ও কৃষকের পারস্পরিক আচরণ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৩৮৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৩৮৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى الشَّيْبَانِيُّ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمْ يُحَرِّمِ الْمُزَارَعَةَ وَلَكِنْ أَمَرَ أَنْ يَرْفُقَ بَعْضُهُمْ بِبَعْضٍ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ رَافِعٍ فِيهِ اضْطِرَابٌ يُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنْ عُمُومَتِهِ وَيُرْوَى عَنْهُ عَنْ ظُهَيْرِ بْنِ رَافِعٍ وَهُوَ أَحَدُ عُمُومَتِهِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْهُ عَلَى رِوَايَاتٍ مُخْتَلِفَةٍ .وَفِي الْبَابِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَجَابِرٍ رضى الله عنهما .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বর্গাচাষ প্রথাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হারাম করেননি। বরং তিনি পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। রাফি (রাঃ) বর্ণিত এ হাদীসের সনদে গরমিল আছে। এ হাদীস রাফি (রাঃ) তাঁর চাচাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি যুহাইর ইবনু রাফি হতেও বর্ণিত আছে। তিনিও তাঁর চাচাদের একজন। বিভিন্ন বর্ণনাকারী রাফি (রাঃ)-এর নিকট হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাইদ ইবনু সাবিত এবং জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে (যা আবূ দাঊদ, নাসাঈ ও ইবনু মাজায় বিদ্যমান রয়েছে)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৩৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় বর্গাচাষে দয়া ও সহানুভূতি। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুযারাআ বা বর্গাচাষকে হারাম করেননি। বরং মানুষ যেন একে অন্যের প্রতি কোমলতা ও সহানুভূতি দেখায়, সেই নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ কৃষিচুক্তি কেবল লাভের হিসাব নয়; এতে মানুষের অবস্থা, পরিশ্রম এবং পারস্পরিক অধিকারও বিবেচনা করতে হয়। জমির মালিক যেন কৃষকের ওপর কঠোর না হন, আর কৃষকও যেন দায়িত্বে অবহেলা না করেন—এমন ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে হাদিসে বিস্তারিত চুক্তির শর্ত বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যাও মূল বক্তব্যের মধ্যে সীমিত রাখা দরকার। সরাসরি শিক্ষা হলো, বর্গাচাষের সম্পর্ককে নিষ্ঠুর লেনদেনে পরিণত না করে দয়া, সহজতা ও পারস্পরিক সহায়তার ভিত্তিতে পরিচালনা করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্গাচাষকে এই বর্ণনায় সরাসরি হারাম বলা হয়নি।
- জমির মালিক ও কৃষকের মধ্যে দয়া ও সহানুভূতি থাকা উচিত।
- কৃষিচুক্তিতে শুধু লাভ নয়, মানুষের অবস্থাও বিবেচনা করা দরকার।
- চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এই হাদিসে উল্লেখ করা হয়নি।
