১৪/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪২২ - কাসামাহ, দিয়াত ও ন্যায়বিচারের পদ্ধতি
কাসামা (সম্মিলিত শপথ) প্রসঙ্গে
কাসামাহ ও দিয়াত: সাক্ষ্যহীন হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচারের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪২২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪২২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ يَحْيَى وَحَسِبْتُ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّهُمَا قَالاَ خَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلِ بْنِ زَيْدٍ وَمُحَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودِ بْنِ زَيْدٍ حَتَّى إِذَا كَانَا بِخَيْبَرَ تَفَرَّقَا فِي بَعْضِ مَا هُنَاكَ ثُمَّ إِنَّ مُحَيِّصَةَ وَجَدَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَتِيلاً قَدْ قُتِلَ فَدَفَنَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ هُوَ وَحُوَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَكَانَ أَصْغَرَ الْقَوْمِ ذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لِيَتَكَلَّمَ قَبْلَ صَاحِبَيْهِ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " كَبِّرِ الْكُبْرَ " . فَصَمَتَ وَتَكَلَّمَ صَاحِبَاهُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مَعَهُمَا فَذَكَرُوا لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَقْتَلَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ فَقَالَ لَهُمْ " أَتَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا فَتَسْتَحِقُّونَ صَاحِبَكُمْ أَوْ قَاتِلَكُمْ " . قَالُوا وَكَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ قَالَ " فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا " . قَالُوا وَكَيْفَ نَقْبَلُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَعْطَى عَقْلَهُ.حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَاهُ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْقَسَامَةِ وَقَدْ رَأَى بَعْضُ فُقَهَاءِ الْمَدِينَةِ الْقَوَدَ بِالْقَسَامَةِ. وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَغَيْرِهِمْ إِنَّ الْقَسَامَةَ لاَ تُوجِبُ الْقَوَدَ وَإِنَّمَا تُوجِبُ الدِّيَةَ .
সাহল ইবনু আবূ হাসমা ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তারা উভয়ে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ইবনু যাইদ এবং মুহাইয়্যিসা ইবনু মাসঊদ ইবনু যাইদ (রাঃ) সফরের উদ্দেশ্যে বের হন। তারা দু’জনে খাইবার নামক জায়গায় এসে পরস্পর এদিক –সেদিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে আবদুল্লাহ ইবনু সাহলকে মুহাইয়্যিসা (রাঃ) মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে দাফন করেন।তারপর মুহাইয়্যিসা, (তার বড় ভাই) হুওয়াইয়্যিসা ইবনু মাসঊদ ও (নিহতের ভাই) আবদুর রহমান ইবনু সাহল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসেন। দলের সবার মধ্যে আবদুর রহমান বয়সে ছোট ছিলেন। তিনি তার অপর দু’জন সঙ্গীর আগে কথা বলতে গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেনঃ বড়কে অগ্রাধিকার দাও। এতে তিনি চুপ থাকেন এবং তার অন্য দু’জন সঙ্গী কথা বলেন।অতঃপর তিনিও তাদের সাথে কথা বলেন, তারা আবদুল্লাহ ইবনু সাহলের মারা যাওয়ার কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বললেন। তাদেরকে তিনি বলেনঃ তোমাদের পঞ্চাশজন লোক কি শপথ করবে? এতে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর অথবা তোমাদের মৃতের দিয়াতের অধিকারী হবে। তারা বলেন, আমরা কিভাবে শপথ করি, আমরা তো প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম না? তিনি বললেনঃ তাহলে পঞ্চাশজন ইয়াহূদী শপথ করে তোমাদের (খুনের অভিযোগ) হতে মুক্ত হয়ে যাবে। তার বলেন, আমরা কিভাবে কাফির সম্প্রদায়ের শপথ গ্রহণ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরিস্থিতি অনুধাবন করে নিজের (সরকারের) কাছে থেকেই তার দিয়াত আদায় করে দেন।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী কাসামার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। মাদীনার একদল আলিম অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, যদি খুনের অপরাধ কাসামার মাধ্যমে স্বীকার করা হয় তবে কিসাস কার্যকর হবে। কূফার একদল আলিম এবং অন্যরা বলেছেন, কাসামার মাধ্যমে কিসাস ওয়াজিব হয় না, কিন্তু দিয়াত ওয়াজিব হয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবন সাহল (রাঃ)-এর হত্যার পর বিচার চাওয়ার একটি ঘটনা এসেছে। প্রথমে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কথা বলার শিষ্টাচার শেখান। বয়সে ছোট আবদুর রহমান আগে কথা বলতে চাইলে তিনি বড়দের অগ্রাধিকার দিতে বলেন। এরপর হত্যার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। নিহতের স্বজনেরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি। তাই তাদের পঞ্চাশজনকে শপথ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা প্রত্যক্ষদর্শী না হওয়ায় শপথ করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত পক্ষের পঞ্চাশজনের শপথের প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেননি। পরিস্থিতিতে অভিযোগ নিশ্চিত করার মতো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির দিয়াত আদায় করেন। কাসামাহ ও দিয়াতের এই বর্ণনায় শপথ, প্রমাণ, অভিযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অধিকার—সবকিছু সতর্কভাবে বিবেচনার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথাবার্তা ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বড়দের সম্মান ও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
- প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছাড়া হত্যার বিষয়ে শপথ করতে হাদিসের ব্যক্তিরা সংকোচ করেছেন।
- বিচারের সময় অভিযোগের পাশাপাশি প্রমাণ ও শপথের বিষয় বিবেচনা করা হয়।
- সমাধান না হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিহতের দিয়াত নিজের পক্ষ থেকে আদায় করেন।
