১৬/৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৭৪ - নিষিদ্ধ পশু-পাখি, মুজাস্সামা ও গর্ভবতী বন্দিনীর বিধান
কোন পশুকে চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তীর ছুড়ে মারা হলে তা খাওয়া নিষেধ
খাইবারের দিনে নিষিদ্ধ পশু-পাখি ও অন্যান্য বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪৭৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪৭৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ وَهْبٍ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ الْعِرْبَاضِ، وَهُوَ ابْنُ سَارِيَةَ عَنْ أَبِيهَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبُعِ وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ وَعَنِ الْمُجَثَّمَةِ وَعَنِ الْخَلِيسَةِ وَأَنْ تُوطَأَ الْحَبَالَى حَتَّى يَضَعْنَ مَا فِي بُطُونِهِنَّ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى سُئِلَ أَبُو عَاصِمٍ عَنِ الْمُجَثَّمَةِ قَالَ أَنْ يُنْصَبَ الطَّيْرُ أَوِ الشَّىْءُ فَيُرْمَى . وَسُئِلَ عَنِ الْخَلِيسَةِ فَقَالَ الذِّئْبُ أَوِ السَّبُعُ يُدْرِكُهُ الرَّجُلُ فَيَأْخُذُهُ مِنْهُ فَيَمُوتُ فِي يَدِهِ قَبْلَ أَنْ يُذَكِّيَهَا .
ইরবায ইবনু সারিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিম্নের পশুগুলো খাওয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেনঃ শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু, নখর ও থাবাযুক্ত হিংস্র পাখি, গৃহপালিত গাধা, মুজাস্সামা এবং খালীসা। তিনি (সদ্য হস্তগত) গর্ভবতী বাঁদীর সাথে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করতেও বারণ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া বলেন, মুজাস্সামার ব্যাপারে আবূ আসিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যে পাখি অথবা পশুকে চাঁদমারির নিশানা বানিয়ে তীর ছুড়ে মেরে ফেলা হয় তাকে ‘মুজাস্সামা’ বলে। ‘খালীসা’ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাঘ অথবা কোন হিংস্র পশু কোন প্রাণী ধরে নিলে কোন মানুষ তা ছিনিয়ে আনল, কিন্তু তা যবেহ করার আগেই তার হাতে মারা গেলে এটাকে ‘খালীসা’ বলে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাইবারের দিনের কয়েকটি নিষেধ একসঙ্গে এসেছে। শিকারি দাঁতওয়ালা হিংস্র পশু, নখর বা থাবাযুক্ত শিকারি পাখি এবং গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে। মুজাস্সামা—অর্থাৎ জীবন্ত প্রাণীকে লক্ষ্য বানিয়ে তীর ছুড়ে হত্যা করা পশুও নিষিদ্ধ। “খালিসা” বলতে এমন প্রাণীর কথা বোঝানো হয়েছে, যেটিকে হিংস্র পশুর কাছ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও যবেহের আগে মারা যায়। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, সদ্য হস্তগত গর্ভবতী বাঁদী সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত তার সঙ্গে সহবাস করা যাবে না। তাই এই বর্ণনায় খাদ্যবিধান, বৈধ যবেহ এবং গর্ভের নিরাপত্তা—তিনটি দিক আছে। মূল শিক্ষা হলো, প্রাণীর ধরন, মৃত্যুর পদ্ধতি এবং গর্ভাবস্থার অবস্থা—প্রতিটি বিষয়ে নির্দিষ্ট সীমা মানতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিকারি দাঁতওয়ালা পশু ও নখরওয়ালা শিকারি পাখি খাওয়া নিষিদ্ধ।
- গৃহপালিত গাধা ও মুজাস্সামা খাওয়া নিষিদ্ধ।
- যবেহের আগে মারা যাওয়া উদ্ধারকৃত প্রাণী খাওয়া যাবে না।
- গর্ভবতী বন্দিনী সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে।
