১৭/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১৪ - নবজাতকের কানে আযান
সদ্য প্রসূত শিশুর কানে আযান দেওয়া
নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার হাদিস—হাসান (রাঃ)-এর ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫১৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫১৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَذَّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلاَةِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْعَقِيقَةِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ . - وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَيْضًا أَنَّهُ عَقَّ عَنِ الْحَسَنِ بِشَاةٍ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ .
উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রহঃ) হতে তার পিতা হতে বর্ণিতঃ
ফাতিমা (রাঃ) হাসান ইবনু আলী (রাঃ)- কে প্রসব করলে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হাসানের কানে আযানের মতই আযান দিতে দেখেছি।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আকীকা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হাদীস “ছেলে সন্তানের পক্ষ হতে সমবয়সী দু’টি বকরী এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষ হতে একটি বকরী যবেহ করতে হবে” অনুযায়ী আমল করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি একটি বকরী দিয়ে হাসান ইবনু আলীর আকীকা করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নবজাতকের কানে আযান। আবু রাফি (রাঃ) বলেন, ফাতিমা (রাঃ) হাসান ইবনু আলী (রাঃ)-কে জন্ম দেওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে হাসানের কানে নামাজের আযানের মতো আযান দিতে দেখেছেন। তাই নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার হাদিস খুঁজলে এই বর্ণনা একটি সরাসরি ঘটনার কথা জানায়। এখানে কোন কানে দেওয়া হয়েছিল, কতবার বলা হয়েছিল বা ইকামত দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব তথ্য উল্লেখ নেই। তাই এই হাদিসের নামে এমন বাড়তি তথ্য যোগ করা ঠিক নয়। বর্ণনাটি শুধু জন্মের সময় হাসান (রাঃ)-এর কানে আযান দেওয়ার ঘটনাকে সামনে আনে। শিশুর জীবনের শুরুতে ইসলামের পরিচিত বাক্য শোনানোর এই আমল এখানে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাজ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। ব্যাখ্যায় মূল ঘটনাটুকু স্পষ্ট রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাসান ইবনু আলী (রাঃ) জন্মের পর তাঁর কানে আযান দেওয়া হয়েছিল।
- আযানটি নামাজের আযানের মতো ছিল বলে বর্ণনা এসেছে।
- হাদিসে কোন কানে বা কতবার—এ তথ্য উল্লেখ নেই।
- নবজাতকের কানে আযানের আলোচনায় মূল বর্ণনার সীমা মানা দরকার।
