১৯/৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৫২ - বানু নাযীরের খেজুরগাছ ও সূরা হাশর ৫

অগ্নিসংযোগ ও (বাড়িঘর) ধ্বংস সাধন

বানু নাযীরের খেজুরগাছ কাটা: সূরা হাশর ৫-এর ঘটনার বর্ণনা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৫২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : ﴾ مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ ﴿ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَلَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِقَطْعِ الأَشْجَارِ وَتَخْرِيبِ الْحُصُونِ . وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ ذَلِكَ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ . قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَنَهَى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ يَزِيدَ أَنْ يَقْطَعَ شَجَرًا مُثْمِرًا أَوْ يُخَرِّبَ عَامِرًا وَعَمِلَ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ بَأْسَ بِالتَّحْرِيقِ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ وَقَطْعِ الأَشْجَارِ وَالثِّمَارِ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَقَدْ تَكُونُ فِي مَوَاضِعَ لاَ يَجِدُونَ مِنْهُ بُدًّا فَأَمَّا بِالْعَبَثِ فَلاَ تُحَرَّقُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ التَّحْرِيقُ سُنَّةٌ إِذَا كَانَ أَنْكَى فِيهِمْ .

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

বানূ নাযীরের বুওয়ায়রাস্থ খেজুর বাগানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অগ্নিসংযোগ করেন এবং গাছগুলো কেটে ফেলেন।আল্লাহ তা'আলা এই বিষয়ে আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তোমরা যেসব খেজুরের গাছ কেটেছ বা এদের কাণ্ডের উপর যেগুলোকে স্বঅবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা সবই আল্লাহ্ তা'আলার অনুমতিক্রমেই করেছ, যাতে তিনি ফাসেকদের লাঞ্ছিত করতে পারেন”(সূরাঃ হাশর- ৫)।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবেক একদল অভিজ্ঞ আলিম মত দিয়েছেন। যুদ্ধাবস্থায় গাছপালা কর্তন এবং দুর্গসমূহের ধ্বংস করায় কোন সমস্যা নেই বলে তারা মনে করেন। কিছু আলিম তা মাকরূহ বলেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম আওযাঈও। তিনি বলেন, ফলবান বৃক্ষ কাটতে এবং জনপদ ধ্বংস করতে আবূ বাক্‌র (রাঃ) বারণ করেছেন। মুসলমানগণও তাঁর পরবর্তী সময়ে এই নীতির অনুসরণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, শত্রু বাহিনীর কৃষিক্ষেত্রে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং ফলবান বা যে কোন ধরনের গাছ কাটাতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আহ্‌মাদ বলেন, প্রয়োজনবোধে তা করা যাবে, কিন্তু বিনা প্রয়োজনে আগুন লাগানো যাবে না। ইমাম ইসহাক বলেন, শত্রুর প্রতি প্রবল আক্রমণের উদ্দেশ্যে এরূপ করাই সুন্নাত।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৫২-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: যুদ্ধকৌশল। হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বানু নাযীরের বুওয়ায়রা এলাকার খেজুরবাগানে আগুন দেন এবং কিছু গাছ কেটে ফেলেন। এই ঘটনা নিয়ে আল্লাহ সূরা হাশরের পঞ্চম আয়াত নাজিল করেন। আয়াতে বলা হয়, যে খেজুরগাছগুলো কাটা হয়েছে বা কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হয়েছে, তা আল্লাহর অনুমতিক্রমে হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ফাসিকদের লাঞ্ছিত করা উদ্দেশ্য ছিল। তাই বানু নাযীরের খেজুরগাছ, সূরা হাশর ৫ এবং যুদ্ধের সময় গাছ কাটা—এগুলো মূল অনুসন্ধান শব্দ। এই বর্ণনা একটি নির্দিষ্ট ঘটনা ও ওহির ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং হাদিসটিকে সাধারণভাবে অকারণে গাছ ধ্বংসের অনুমতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। মূল কথা হলো, ওই অভিযানের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ আল্লাহর অনুমতির অধীনে ছিল।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বানু নাযীরের ঘটনায় কিছু খেজুরগাছ কাটা ও পোড়ানো হয়েছিল।
  • সূরা হাশর ৫-এ এই কাজকে আল্লাহর অনুমতিক্রমে বলা হয়েছে।
  • নির্দিষ্ট যুদ্ধঘটনাকে অকারণ ধ্বংসের সাধারণ অনুমতি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন