২০/৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৩৪ - ইসলামে বার্ধক্য ও কেয়ামতের নূর
আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় যে লোক বুড়ো হয়েছে তার সাওয়াব
ইসলামে চুল পাকা: কেয়ামতের দিনের নূর
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬৩৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬৩৪
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، أَنَّ شُرَحْبِيلَ بْنَ السِّمْطِ، قَالَ يَا كَعْبُ بْنَ مُرَّةَ حَدِّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَاحْذَرْ . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الإِسْلاَمِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . وَحَدِيثُ كَعْبِ بْنِ مُرَّةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . هَكَذَا رَوَاهُ الأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ وَأَدْخَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ كَعْبِ بْنِ مُرَّةَ فِي الإِسْنَادِ رَجُلاً . وَيُقَالُ كَعْبُ بْنُ مُرَّةَ وَيُقَالُ مُرَّةُ بْنُ كَعْبٍ الْبَهْزِيُّ وَالْمَعْرُوفُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مُرَّةُ بْنُ كَعْبٍ الْبَهْزِيُّ وَقَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَحَادِيثَ .
কা’ব ইবনু মুররা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
শুরাহ্বীল ইবনুস সিম্ত (রহঃ) বলেন, হে কা’ব ইবনু মুররা! আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস শুনান এবং সতর্কতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে লোক মুসলমান অবস্থায় বুড়ো হল, তার জন্য কেয়ামতের দিন একটি বিশেষ আলোকবর্তিকা থাকবে।
আবূ ঈসা বলেন, ফাযালা ইবনু উবাইদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। কা’ব ইবনু মুররার হাদীসটি হাসান। কা’ব ইবনু মুররার হাদীসটি আমর ইবনু মুররা হতে আমাশ এরূপই বর্ণনা করেছেন। মানসূর-সালিম ইবনু আবিল জাদ হতেও এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে সনদের মধ্যে অন্য একজন বর্ণনাকারীকে সালিম ও কা’ব-এর মাঝখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে কা’ব ইবনু মুররাও বলা হয় এবং মুররা ইবনু কা’ব আল বাহযীও বলা হয়। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন সাহাবী হিসাবেই মুররা ইবনু কা’ব আল-বাহ্যী (রাঃ) প্রসিদ্ধ ও স্বতন্ত্র ব্যক্তি। তিনি নবী (ﷺ) হতে অনেকগুলো হাদীস বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মুসলিম অবস্থায় বয়স বাড়া এবং চুল পাকার মর্যাদা। কা’ব ইবনু মুররা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে একটি চুল পাকায়, তা কেয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে। সহজভাবে বললে, ইসলামের ওপর জীবন কাটাতে কাটাতে বার্ধক্যে পৌঁছানোকে এখানে সম্মানের চোখে দেখা হয়েছে। হাদিসটি বয়স বাড়াকে শুধু দুর্বলতা বা দুশ্চিন্তার বিষয় হিসেবে দেখায় না; বরং ইসলামের ওপর টিকে থাকা জীবনের একটি চিহ্নকে আখিরাতের আলোর সঙ্গে যুক্ত করে। তবে বর্ণনায় যতটুকু আছে, তার বাইরে চুল পাকার প্রতিটি দিক নিয়ে নতুন বিধান তৈরি করা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, দীর্ঘ জীবন পেলে ঈমান ও ইসলামের ওপর অবিচল থাকা এবং বয়সের পরিবর্তনকে আল্লাহর স্মরণে গ্রহণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামের মধ্যে চুল পাকা কেয়ামতের দিন নূরের কারণ হবে।
- মুসলিম অবস্থায় বয়স বাড়ার বিশেষ মর্যাদা এই হাদিসে এসেছে।
- জীবনের দীর্ঘ সময় ইসলামের ওপর থাকা মূল্যবান।
