২০/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৫০ - নির্জন ইবাদত ও আল্লাহর পথে অবস্থান
আল্লাহ তা‘আলার পথে এক সকাল ও এক বিকাল ব্যয় করার সাওয়াব
নির্জন ইবাদত না আল্লাহর পথে দায়িত্ব: সাহাবীর প্রশ্নের উত্তর
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬৫০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬৫০
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَسْبَاطِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذُبَابٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ مَرَّ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِشِعْبٍ فِيهِ عُيَيْنَةٌ مِنْ مَاءٍ عَذْبَةٌ فَأَعْجَبَتْهُ لِطِيبِهَا فَقَالَ لَوِ اعْتَزَلْتُ النَّاسَ فَأَقَمْتُ فِي هَذَا الشِّعْبِ وَلَنْ أَفْعَلَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ . فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " لاَ تَفْعَلْ فَإِنَّ مَقَامَ أَحَدِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ سَبْعِينَ عَامًا أَلاَ تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَيُدْخِلَكُمُ الْجَنَّةَ اغْزُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে একজন সাহাবী একটি পাহাড়ী উপত্যকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে স্থানে একটি মিঠা পানির ছোট ঝর্ণা ছিল। নির্মল-স্বচ্ছ এই পানির স্বাদ ও সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল। তিনি (মনে মনে) বললেন, আমি যদি সাথীদের হতে আলাদা হয়ে এই উপত্যকায় থেকে যেতাম! আমি তা কখনও করতে পারি না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অনুমতি ব্যতীত। তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উল্লেখ করলেন।তিনি বললেনঃ তা কখনো কর না। কেননা তোমাদের কেউ বাড়ীতে থেকে সত্তর বছর ধরে নামায আদায় করার চেয়েও কিছু সময় আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় অবস্থান করা উত্তম। তোমরা কি এটা পছন্দ কর না যে, তোমাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা ক্ষমা করে দেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে দাখিল করান? তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার পথে জিহাদ কর। যে লোক আল্লাহ্ তা‘আলার রাস্তায় দুইবার উষ্ট্রী দোহনের মধ্যবর্তী পরিমাণ সময় যুদ্ধ করে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায়।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক সাহাবী পাহাড়ি উপত্যকার স্বচ্ছ মিঠা পানির ঝর্ণা দেখে সেখানে একা থেকে ইবাদত করার ইচ্ছা করেন। তবে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুমতি ছাড়া তা করতে চাননি। বিষয়টি জানালে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে এমনটি করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, আল্লাহর পথে কিছু সময় অবস্থান করা ঘরে সত্তর বছর নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। এরপর ক্ষমা ও জান্নাতের কথা স্মরণ করিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধের উৎসাহ দেওয়া হয়। এমনকি দুইবার উট দোহনের মধ্যবর্তী অল্প সময় যুদ্ধের জন্যও জান্নাতের কথা এসেছে। ‘নির্জন ইবাদত’, ‘আল্লাহর পথে অবস্থান’ এবং ‘অল্প সময় জিহাদের ফজিলত’—এই হাদিসের মূল বিষয়। এখানে নিজের পছন্দের নির্জনতা নয়, নবীজির নির্দেশ মানা এবং সময়ের দাবি অনুযায়ী দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো মনে হওয়া কোনো সিদ্ধান্তেও নবীজির নির্দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
- হাদিসে আল্লাহর পথে অবস্থানকে দীর্ঘ নির্জন ইবাদতের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে।
- অল্প সময়ের আন্তরিক অংশগ্রহণেরও বড় মর্যাদার কথা এসেছে।
- ক্ষমা ও জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা মুমিনকে দায়িত্বশীল কাজে উৎসাহিত করে।
