২০/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৫৯ - তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাতের দরজা
তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাতের দরজা
তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাতের দরজা: যুদ্ধক্ষেত্রের দৃঢ়তার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬৫৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬৫৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي بِحَضْرَةِ الْعَدُوِّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ أَبْوَابَ الْجَنَّةِ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ رَثُّ الْهَيْئَةِ أَأَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَذْكُرُهُ قَالَ نَعَمْ. فَرَجَعَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ أَقْرَأُ عَلَيْكُمُ السَّلاَمَ . وَكَسَرَ جَفْنَ سَيْفِهِ فَضَرَبَ بِهِ حَتَّى قُتِلَ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيِّ . وَأَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ هُوَ اسْمُهُ.
আবূ বাক্র ইবনু আবূ মূসা আল-আশআরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
শত্রুর মোকাবিলায় আমি আমার বাবাকে (যুদ্ধক্ষেত্রে) বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাতের দরজাসমূহ। দলের উস্কখুস্ক একজন লোক বললেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কি তা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমি তোমাদের বিদায়ী সালাম জানাচ্ছি। এই বলে তিনি নিজ তলোয়ারের খাপ ভেঙ্গে ফেললেন এবং তলোয়ার দ্বারা (শত্রুর প্রতি) আঘাত হানতে থাকেন। অবশেষে তিনি নিহত হন।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র জাফর ইবনু সুলাইমান আয-যুবাঈর সূত্রেই জেনেছি। আবূ ইমরান আল-জাওনীর নাম আবদুল মালিক, পিতা হাবীব। আবূ বাক্র ইবনু আবূ মূসার ব্যাপারে আহ্মাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেন, এটাই তার নাম, উপনাম নয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শত্রুর মুখোমুখি অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি বাণী বর্ণিত হয়েছে: জান্নাতের দরজাসমূহ তলোয়ারের ছায়াতলে। উপস্থিত এক সাধারণ পোশাকের ব্যক্তি নিশ্চিত হতে চান, কথাটি সত্যিই রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে শোনা হয়েছে কি না। হ্যাঁ উত্তর পাওয়ার পর তিনি সঙ্গীদের বিদায়ী সালাম জানান, তলোয়ারের খাপ ভেঙে সামনে এগিয়ে যুদ্ধ করতে থাকেন এবং নিহত হন। ‘তলোয়ারের ছায়াতলে জান্নাত’, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে সাহস’ এবং ‘শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা’—এই হাদিসের মূল বিষয়। ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধপরিস্থিতির বর্ণনা। তাই এটিকে ব্যক্তিগত সহিংসতা বা অনুমতিহীন কাজের সমর্থন হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো, বৈধ যুদ্ধক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতিদানের বিশ্বাস একজন মানুষকে দৃঢ়তা ও ত্যাগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসটি শত্রুর মুখোমুখি একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধপরিস্থিতিতে বলা হয়েছিল।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী নিশ্চিত হয়ে ব্যক্তি দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যান।
- জান্নাতের আশা ত্যাগ ও সাহসের প্রেরণা হতে পারে।
- ব্যক্তিগত বা অনুমতিহীন সহিংসতার সঙ্গে এই বর্ণনা মেলানো ঠিক নয়।
