২০/২৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৬৫ - একদিন রিবাতের সওয়াব ও কবরের নিরাপত্তা
আল্লাহ তা‘আলার পথে পাহারাদানের সাওয়াব
একদিন রিবাতের ফজিলত: মাসব্যাপী রোজা-নামাজের চেয়েও উত্তম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬৬৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬৬৫
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ مَرَّ سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ بِشُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ وَهُوَ فِي مُرَابَطٍ لَهُ وَقَدْ شَقَّ عَلَيْهِ وَعَلَى أَصْحَابِهِ قَالَ أَلاَ أُحَدِّثُكَ يَا ابْنَ السِّمْطِ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ بَلَى .قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ وَرُبَّمَا قَالَ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَمَنْ مَاتَ فِيهِ وُقِيَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَنُمِّيَ لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
সালমান ফারসী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক সময় শুরাহবীল ইবনুস সিমতের সামনে দিয়ে সালমান ফারসী (রাঃ) পথ চলছিলেন। তিনি তখন তার ঘাঁটিতে পাহারারত ছিলেন। তাঁর ও তাঁর সাথীদের জন্য পাহারার কাজটি খুবই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তিনি (সালমান) বললেন, হে সিমতের পুত্র! আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদীস বলব, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুনেছি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।সালমান (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ এক দিন আল্লাহ্ তা’আলার পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া একাধারে এক মাস রোযা রাখা এবং রাতে নামায আদায় হতেও উত্তম ও বেশি কল্যাণকর। এই কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় যে লোক মারা যাবে তাকে কবরের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হতে মুক্তি দেওয়া হবে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার আমল পরিবর্ধিত করা হবে।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালমান ফারসি রাঃ কঠিন পাহারার দায়িত্বে থাকা শুরাহবীল ইবন সিমত ও তার সঙ্গীদের উৎসাহ দেন। তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছ থেকে শোনা একটি বাণী জানান। সেখানে একদিন আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়াকে এক মাস রোজা রাখা ও রাতের নামাজ আদায়ের চেয়ে উত্তম বা বেশি কল্যাণকর বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, এই দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ মারা গেলে তাকে কবরের বিপর্যয়কর পরীক্ষা থেকে রক্ষা করা হবে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার আমল বাড়ানো হবে। হাদিসটি কষ্টের সময় দায়িত্বে অটল থাকার মূল্য বোঝায়। একই সঙ্গে এতে নির্দিষ্টভাবে রিবাত বা সীমান্ত পাহারার কাজের কথা এসেছে। তাই এর ফজিলতকে সব ধরনের কাজের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর পথে কঠিন পাহারার দায়িত্ব ধৈর্য ধরে পালন করলে বড় সওয়াব ও বিশেষ নিরাপত্তার আশা করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন দায়িত্বে থাকা মানুষকে নবীজির বাণী দিয়ে উৎসাহ দেওয়া যায়।
- একদিন সীমান্ত পাহারা এক মাসের রোজা ও রাতের নামাজের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে।
- এই কাজে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হলে কবরের পরীক্ষা থেকে সুরক্ষার কথা এসেছে।
- কেয়ামত পর্যন্ত আমল বাড়ানোর বিশেষ সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
