২২/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭২৩ - জান্নাতের নিয়ামত দুনিয়ার সৌন্দর্যের চেয়ে উত্তম
(রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য স্বর্নখচিত জুব্বা উপহার)
জান্নাতের নিয়ামত দুনিয়ার সুন্দর পোশাকের চেয়েও উত্তম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭২৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭২৩
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا وَاقِدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، قَالَ قَدِمَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ مَنْ أَنْتَ فَقُلْتُ أَنَا وَاقِدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، .قَالَ فَبَكَى وَقَالَ إِنَّكَ لَشَبِيهٌ بِسَعْدٍ وَإِنَّ سَعْدًا كَانَ مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ وَأَطْوَلِهِمْ وَإِنَّهُ بَعَثَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ جُبَّةً مِنْ دِيبَاجٍ مَنْسُوجٌ فِيهَا الذَّهَبُ فَلَبِسَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَقَامَ أَوْ قَعَدَ فَجَعَلَ النَّاسُ يَلْمُسُونَهَا فَقَالُوا مَا رَأَيْنَا كَالْيَوْمِ ثَوْبًا قَطُّ . فَقَالَ «أَتَعْجَبُونَ مِنْ هَذِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا تَرَوْنَ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ. وَهَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ.
ওয়াকিদ ইবনু আমর ইবনু সা’দ ইবনু মুআয (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আমাদের এখানে) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আসলে আমি তাঁর সামনে এলাম। তিনি (আমাকে) প্রশ্ন করেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি ওয়াকিদ ইবনু আমর ইবনু সা’দ ইবনু মুআয। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (আনাস) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, সা’দের চেহারার সাথে তোমার চেহারার মিল আছে।সা’দ (রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান, বলিষ্ঠ ও লম্বা শরীরের অধিকারী। তিনি একবার স্বর্ণের কারুকার্য খচিত দীবাজ (রেশম ও সূতা মিশ্রিত) কাপড়ের একটি জুব্বা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য প্রেরণ করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা পরে মিম্বারে উঠে দাঁড়ান অথবা বসেন। জনগণ তা ছুঁয়ে দেখতে শুরু করলো এবং বলতে লাগল, আমরা আজকের মতো এমন জামা আর কোন দিন দেখিনি। তিনি বললেনঃ তোমরা এর সৌন্দর্য দেখে আশ্চর্য হচ্ছ! তোমরা যা দেখছ, জান্নাতে সা’দের রুমাল তাঁর চেয়ে বেশি উত্তম।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭২৩-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়—জান্নাতের নিয়ামত। আনাস (রাঃ) ওয়াকিদকে দেখে সা‘দ ইবন মু‘আজ (রাঃ)-এর কথা স্মরণ করেন এবং কেঁদে ফেলেন। এরপর সা‘দ (রাঃ)-এর পাঠানো স্বর্ণের কারুকাজযুক্ত দীবাজ জুব্বার ঘটনা বলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সেটি পরলে লোকেরা কাপড়টির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তা ছুঁয়ে দেখতে থাকে। তখন তিনি তাদের দৃষ্টি দুনিয়ার পোশাক থেকে জান্নাতের নিয়ামতের দিকে ফেরান। তিনি বলেন, জান্নাতে সা‘দের রুমালও তাদের দেখা ওই পোশাকের চেয়ে উত্তম। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, চোখে দেখা দুনিয়ার সৌন্দর্য যত আকর্ষণীয় হোক, জান্নাতের নিয়ামত তার চেয়ে উন্নত। এখানে সা‘দ (রাঃ)-এর মর্যাদা এবং আখিরাতের পুরস্কারের মূল্যও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ফলে দুনিয়ার বাহ্যিক চাকচিক্যকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে না করে আখিরাতের উত্তম প্রতিদানের কথা স্মরণ করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও জান্নাতের নিয়ামতকে বড় মনে রাখা উচিত।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের বিস্ময়কে আখিরাতের শিক্ষার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
- হাদিসে সা‘দ ইবন মু‘আজ (রাঃ)-এর মর্যাদার একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে।
