২২/২৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৫৯ - পরচুলা ও উল্কির নিষেধ
পরচুলা ব্যবহার প্রসঙ্গে
পরচুলা ও উল্কি: করানো ও করে দেওয়া—উভয়ের জন্য কঠিন সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭৫৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭৫৯
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ " . قَالَ نَافِعٌ الْوَشْمُ فِي اللَّثَةِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَمَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ وَمُعَاوِيَةَ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পরচুলা (কৃত্রিম চুল) সংযোগকারিণী ও ব্যবহারকারিণী এবং উল্কি অঙ্কনকারিণী ও যে তা অঙ্কন করায়, এদেরকে আল্লাহ তা’আলা অভিসম্পাত করেছেন। নাফি (রহঃ) বলেন, সাধারণত নিচের মাড়িতেই আঁকা হয়।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আইশা, ইবনু মাসঊদ, আসমা বিনতু আবী বাক্র, ইবনু আব্বাস, মাকিল ইবনু ইয়াসার ও মুআবিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে চার ধরনের ব্যক্তির কথা এসেছে। যে নারী অন্যের চুলের সঙ্গে কৃত্রিম বা অতিরিক্ত চুল যুক্ত করে, যে তা নিজের জন্য করায়, যে উল্কি আঁকে এবং যে নিজের শরীরে উল্কি আঁকায়—তাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপের কথা বলা হয়েছে। এতে কাজটি করা এবং অন্যের মাধ্যমে করানো—দুই দিকই স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত। নাফি (রহঃ) আরও বলেন, সে সময় সাধারণত নিচের মাড়িতে উল্কি আঁকা হতো। এই শেষ তথ্যটি বর্ণনাকারীর ব্যাখ্যা; মূল নিষেধের ভাষা উল্কি আঁকা ও আঁকানো নিয়ে। হাদিসটির মূল বার্তা সৌন্দর্যের নামে পরচুলা সংযোগ ও উল্কির কাজ থেকে বিরত থাকা। ব্যাখ্যায় আধুনিক সব ধরনের চিকিৎসা বা চুলের সমস্যাকে একই কথা বলে দেওয়া ঠিক হবে না, কারণ সেগুলো এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় আলোচনা করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরচুলা সংযোগ করা ও করানো—দুই কাজের বিরুদ্ধেই সতর্কতা এসেছে।
- উল্কি আঁকা ও আঁকানো—উভয়কেই হাদিসে নিন্দা করা হয়েছে।
- বর্ণনার বাইরে অন্য চিকিৎসা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে আলাদা দলিল প্রয়োজন।
