২/১৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৬ - সময়মতো নামাজ ও সালাতের হেফাজত
ইমাম যদি বিলম্বে নামাজ আদায় করে তবে মুক্তাদীদের তা প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা সম্পর্কে
সময়মতো নামাজ আদায়: নিজের সালাতের হেফাজতের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «يَا أَبَا ذَرٍّ أُمَرَاءُ يَكُونُونَ بَعْدِي يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ فَصَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ صُلِّيَتْ لِوَقْتِهَا كَانَتْ لَكَ نَافِلَةً وَإِلاَّ كُنْتَ قَدْ أَحْرَزْتَ صَلاَتَكَ» .وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ الصَّلاَةَ لِمِيقَاتِهَا إِذَا أَخَّرَهَا الإِمَامُ ثُمَّ يُصَلِّي مَعَ الإِمَامِ وَالصَّلاَةُ الأُولَى هِيَ الْمَكْتُوبَةُ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَأَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবূ যার! আমার পর এমন সব আমীর (রাষ্ট্রপ্রধান) ক্ষমতায় আসবে যারা নামাজকে হত্যা করে ফেলবে। অতএব তুমি সময়মত (আওয়াল ওয়াক্তে) নামাজ আদায় করে নিও। যদি তুমি নির্ধারিত সময়ে নামাজ (একাকী) আদায় করে নাও তাহলে পরে ইমামের সাথে আদায় করা নামাজ তোমার জন্য নফল হিসাবে ধরা হবে। পরে তুমি যদি ইমামের সাথে আবার নামাজ না আদায় কর তাহলে তুমি নিজের নামাজের হেফাজত করলে।
এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ ও ‘উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে, আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ যার (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান। ইমাম যদি নামাজ আদায়ে দেরি করে, তাহলে যে কোন ব্যক্তি একা নামাজ আদায় করে নেবে। অতঃপর ইমামের সাথে আবার তা আদায় করবে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে প্রথমের নামাজ ফরজ হিসাবে বিবেচ্য হবে। আবূ ইমরান আলজাওনী’র নাম ‘আব্দুল মালিক ইবনু হাবীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সময়মতো নামাজ আদায় এবং নিজের সালাতের হেফাজত। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আবু যার (রাঃ)-কে বলেছেন, তাঁর পরে এমন আমীর আসবে যারা সালাতকে নষ্ট করবে বা সময় থেকে সরিয়ে দেবে। তাই তিনি নির্দেশ দেন, তুমি সময়মতো সালাত আদায় করে নেবে। পরে যদি ইমামের সঙ্গে আবার নামাজ পড়, তা নফল হিসেবে হবে। আর যদি না পড়, তবুও তুমি নিজের সালাতের হেফাজত করলে। এই হাদিসে খুব বাস্তব শিক্ষা আছে। অন্যের অবহেলার কারণে নিজের ফরজ নামাজকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়। বিশেষ করে যখন জামাত বা ইমাম নামাজ দেরি করে, তখন নিজের নামাজের সময় নিয়ে সচেতন থাকা দরকার। তবে এই হাদিসের বাইরে গিয়ে সব পরিস্থিতির বিস্তারিত নিয়ম বলা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, সালাতের ওয়াক্তকে রক্ষা করা এবং নিজের দায়িত্ব আগে পালন করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের দেরির কারণে নিজের ফরজ নামাজকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।
- সময়মতো নামাজ আদায় নিজের সালাতের হেফাজতের অংশ।
- পরে ইমামের সঙ্গে আদায় করলে তা নফল হিসেবে গণ্য হতে পারে—হাদিসে এ কথা এসেছে।
