২৩/২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৮৯ - খরগোশের গোশত গ্রহণের হাদিস
খরগোশের গোশত খাওয়া
খরগোশের গোশত গ্রহণ ও খাওয়ার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭৮৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭৮৯
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَنَسٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ أَنْفَجْنَا أَرْنَبًا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ فَسَعَى أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ خَلْفَهَا فَأَدْرَكْتُهَا فَأَخَذْتُهَا فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ فَذَبَحَهَا بِمَرْوَةٍ فَبَعَثَ مَعِي بِفَخِذِهَا أَوْ بِوَرِكِهَا إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَأَكَلَهُ . قَالَ قُلْتُ أَكَلَهُ قَالَ قَبِلَهُ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَعَمَّارٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ صَفْوَانَ وَيُقَالُ مُحَمَّدُ بْنُ صَيْفِيٍّ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ بِأَكْلِ الأَرْنَبِ بَأْسًا . وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَكْلَ الأَرْنَبِ وَقَالُوا إِنَّهَا تَدْمِي .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমরা একটি খরগোশকে মাররায-যাহরানে তাড়া করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ এর পিছু ধাওয়া করলেন। আমি এর নাগালে পৌঁছে তা ধরে ফেললাম। আমি আবূ তালহা (রাঃ)-এর সামনে খরগোশটি নিয়ে আসলে তিনি একটি ধারালো পাথর দিয়ে তা যবেহ করেন। তিনি আমাকে এর ঊরু অথবা নিতম্বের গোশত দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পাঠালে তিনি তা খেলেন। আমি (হিশাম) প্রশ্ন করলাম, তিনি কি তা খেয়েছেন? আনাস (রাঃ) বললেন, তিনি তা গ্রহণ করেছেন।
আবূ ঈসা বলেন, জাবির, আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ান (রাঃ) (তাঁকে মুহাম্মাদ ইবনু সাইফীও বলা হয়) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। খরগোশের গোশত খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই বলে তারা মনে করেন। খরগোশের গোশত খাওয়াকে অপর কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আলিম মাকরূহ বলেন। তারা বলেন, খরগোশের ঋতুস্রাব হয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খরগোশ শিকার, যবেহ এবং তার গোশত রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পাঠানোর ঘটনা এসেছে। আনাস (রাঃ) ও সাহাবীরা মাররুয যাহরানে একটি খরগোশের পিছু নেন। আনাস (রাঃ) সেটি ধরেন এবং আবূ তালহা (রাঃ) ধারালো পাথর দিয়ে যবেহ করেন। এরপর খরগোশের ঊরু বা নিতম্বের গোশত নবীজির কাছে পাঠানো হয়। বর্ণনায় প্রথমে তিনি তা খেয়েছেন বলা হয়েছে, পরে প্রশ্নের উত্তরে আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি তা গ্রহণ করেছেন। তাই নিরাপদভাবে মূল শিক্ষা হলো—খরগোশের গোশত নবীজির কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন। হাদিসটির শেষে বেশিরভাগ আলিমের আমলের কথাও এসেছে। ব্যাখ্যায় শিকারের স্থান, যবেহের উপায় ও গ্রহণের বিষয় আলাদা করে বোঝালে পাঠক সহজে ঘটনাটি বুঝতে পারবেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খরগোশ ধরা ও যবেহ করার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে
- গোশতের একটি অংশ নবীজির কাছে পাঠানো হয়েছিল
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তা গ্রহণ করেছেন বলে আনাস (রাঃ) নিশ্চিত করেছেন
