২৩/৪৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৫১ - যাইতুনের তেল খাওয়া ও শরীরে মাখার বর্ণনা
যায়তুনের তেল খাওয়া প্রসঙ্গে
যাইতুনের তেলের হাদিস: খাওয়া ও শরীরে ব্যবহারের নির্দেশনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৫১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৫১
دَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «كُلُوا الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ وَكَانَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ يَضْطَرِبُ فِي رِوَايَةِ هَذَا الْحَدِيثِ فَرُبَّمَا ذَكَرَ فِيهِ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَرُبَّمَا رَوَاهُ عَلَى الشَّكِّ فَقَالَ أَحْسَبُهُ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَرُبَّمَا قَالَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلاً .
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (যাইতূনের) তেল খাও এবং তা শরীরে মালিশ কর। কেননা এটা বারকাত ও প্রাচুর্যময় গাছের তেল।
আবূ ঈসা বলেন, আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবদুর রাযযাকের সূত্রেই জেনেছি। এ হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি সনদের মধ্যে গরমিল করে ফেলেছেন। তিনি কখনো উমর (রাঃ)-রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, আবার কখনো এতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, এটি উমর (রাঃ)-রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণিত হতে পারে, আবার কখনো এ হাদীসটিকে যাইদ ইবনু আসলামের সূত্রে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ঐ সনদটি এরূপ “আবূ দাঊদ সুলাইমান ইবনু মা’বাদ আব্দুর রাজ্জাক হতে, তিনি মা’মার হতে, তিনি যাইদ ইবনু আসলাম হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। এতে তিনি উমরের উল্লেখ করেন নাই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় যাইতুনের তেল। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যাইতুনের তেল খেতে এবং তা শরীরে মাখতে বলেছেন। কারণ এটি একটি বরকতময় গাছ থেকে আসে। যাইতুনের তেলের হাদিসটি তেলটির খাদ্য ও বাহ্যিক ব্যবহার—দুটি দিকই উল্লেখ করে। তবে পাঠ্যে কতটুকু খেতে হবে, কীভাবে মাখতে হবে বা কোন রোগে ব্যবহার করতে হবে, তার বিস্তারিত নেই। তাই নির্দিষ্ট চিকিৎসা, রোগমুক্তি বা নিশ্চিত স্বাস্থ্যফল দাবি করা ঠিক নয়। বর্ণনার শেষাংশে আরও বলা হয়েছে, আবদুর রাজ্জাক কখনো উমর (রাঃ)-এর সূত্রে, কখনো সন্দেহসহ এবং কখনো মুরসালভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ সনদের রূপে অস্থিরতা ছিল। তাই হাদিসটি উদ্ধৃত করার সময় এই বর্ণনাগত তথ্য মনে রাখা এবং বাড়তি দাবি না করা প্রয়োজন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় যাইতুনের তেল খাওয়া ও শরীরে মাখার কথা এসেছে।
- তেলটি বরকতময় গাছ থেকে উৎপন্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বর্ণনার সূত্রে রূপভেদ থাকায় হাদিসটি সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করা উচিত।
- হাদিসে নেই এমন চিকিৎসাগত নিশ্চয়তা দাবি করা ঠিক নয়।
