২৫/৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯০১ - কবীরা গুনাহ ও মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহতা
বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া কাবীরা গুনাহ
কবীরা গুনাহ কী: শিরক, বাবা-মায়ের অবাধ্যতা ও মিথ্যা সাক্ষ্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯০১
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ» . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ «الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ» . قَالَ وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ «وَشَهَادَةُ الزُّورِ أَوْ قَوْلُ الزُّورِ " . فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُهَا حَتَّى قُلْنَا لَيْتَهُ سَكَتَ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو بَكْرَةَ اسْمُهُ نُفَيْعُ بْنُ الْحَارِثِ .
আবদুর রাহমান ইবনু আবী বাকরা (রাঃ) হতে তার বাবা হতে বর্ণিতঃ
তিনি (আবূ বাকরা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বাধিক কাবীরা গুনাহের ব্যাপারে জানিয়ে দিবো না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! অবশ্যই জানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আল্লা্হ্ তা‘আলার সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করা এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসেন এবং বলেনঃ এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া ও মিথ্যা বলা। একথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবিরতভাবে বলতে থাকেন। আমরা (মনে মনে) বলতে লাগলাম, আহা! তিনি যদি থামতেন, চুপ করতেন!
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ বাকরার নাম নুফাই, পিতা আল-হারিস।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের কাছে সর্বাধিক কবীরা গুনাহের কয়েকটি দিক তুলে ধরেছেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করা এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়ার কথা বলেন। এরপর হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসে মিথ্যা সাক্ষ্য ও মিথ্যা বলার বিষয়ে বারবার সতর্ক করেন। তাঁর ভঙ্গি ও কথার পুনরাবৃত্তি থেকে বোঝা যায়, মিথ্যা সাক্ষ্যকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এটি শুধু মুখের একটি ভুল কথা নয়; এর মাধ্যমে সত্য আড়াল হতে পারে এবং অন্যের অধিকার নষ্ট হতে পারে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচতে বিশ্বাস, পারিবারিক দায়িত্ব ও কথার সততার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সত্য বলা এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে অবাধ্য আচরণ না করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করা সর্বাধিক কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
- বাবা-মায়ের অবাধ্যতা গুরুতর গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকতে হবে।
- সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অটল থাকা দরকার।
