২৫/১৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯১৩ - মেয়েদের বিষয়ে ধৈর্যের ফজিলত
মেয়ে সন্তান ও বোনদের উদ্দেশ্যে খরচ করা
মেয়ে সন্তান পালনে ধৈর্য: জাহান্নাম থেকে আড়ালের সুসংবাদ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯১৩
حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ مَسْلَمَةَ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنِ ابْتُلِيَ بِشَيْءٍ مِنَ الْبَنَاتِ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার মেয়ে সন্তানদের জন্য কোনরকম পরীক্ষার সম্মুখীন হয় (বিপদগ্রস্ত হয়), সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধরলে তার জন্য তারা জাহান্নাম হতে আবরণ (প্রতিবন্ধক) হবে।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মেয়ে সন্তানদের নিয়ে কোনো পরীক্ষার মুখে পড়া ব্যক্তিকে ধৈর্য ধরার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি মেয়েদের বিষয়ে পরীক্ষিত হয় এবং তাদের ওপর ধৈর্য ধরে, তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড়াল হবে। এখানে মেয়েদের দোষ বলা হয়নি; বরং তাদের লালন-পালন বা দায়িত্বের পথে যে কষ্ট ও পরীক্ষা আসতে পারে, সেই অবস্থায় ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণের মূল্য জানানো হয়েছে। তাই কন্যাসন্তানকে অবহেলা, বিরক্তি বা বোঝা হিসেবে না দেখে যত্নের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা দরকার। হাদিসটি নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেনি। মেয়েদের বিষয়ে যতটুকু দায়িত্বই আসুক, তার প্রতি ধৈর্যশীল হওয়ার কথা এসেছে। মূল বার্তা হলো, কষ্টের মধ্যেও মেয়েদের হক রক্ষা করা বড় নেকির কারণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেয়ে সন্তানের দায়িত্বে ধৈর্য ধরার বড় ফজিলত রয়েছে।
- কন্যাসন্তানকে বোঝা বা অবহেলার বিষয় ভাবা ঠিক নয়।
- কষ্টের সময়ও মেয়েদের প্রতি দায়িত্ব ও ভালো আচরণ বজায় রাখতে হবে।
- ধৈর্যশীল লালন-পালন জাহান্নাম থেকে আড়ালের কারণ হতে পারে।
