২৬/১২. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৫৩ - হিজামা ও উপার্জন

রক্তক্ষরণ প্রসঙ্গে

হিজামা কাজের হাদিস: সেবা, উপার্জন ও চিকিৎসা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০৫৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ : أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ :حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ : سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ يَقُولُ : وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ :إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ حِينَ عُرِجَ بِهِ؛ مَا مَرَّ عَلَى مَلَإٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ؛ إِلَّا قَالُوا :عَلَيْكَ بِالْحِجَامَةِ.– صحيح.-وَقَالَ : " إِنَّ خَيْرَ مَا تَحْتَجِمُونَ فِيهِ؛ يَوْمَ سَبْعَ عَشْرَةَ، وَيَوْمَ تِسْعَعَشْرَةَ، وَيَوْمَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ ".– وَقَالَ : " إِنَّ خَيْرَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ : السَّعُوطُ، وَاللَّدُودُ، وَالْحِجَامَةُ،وَالْمَشِيُّ ".وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَدَّهُ الْعَبَّاسُ وَأَصْحَابُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ :" مَنْ لَدَّنِي؟ ". فَكُلُّهُمْ أَمْسَكُوا، فَقَالَ : " لَا يَبْقَى أَحَدٌ مِّمَّنْ فِيالْبَيْتِ؛ إِلَّالُدَّ؛ غَيْرَ عَمِّي الْعَبَّاسِ.قَالَ عَبْدٌ، قَالَ النَّضْرُ : اللَّدُودُ : الْوَجُورُ.– صَحِيحٌ : دُونَ قَوْلِهِ : (لَدَّهُ الْعَبَّاسُ)؛ بَلْ هُوَ مُنْكَرٌ؛ لِمُخَالَفَتِهِلِقَوْلِهِ ﷺ فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ نَحْوَهُ بِلَفْظِ : " غَيْرَ الْعَبَّاسِ؛ فَإِنَّهُ لَمْيَشْهَدْكُمْ : خ(٤٥٨)، م(٢٤/٧).

‘ইকরিমাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর তিনটি গোলাম ছিল। এরা রক্তমোক্ষণের কাজ করত। এদের মধ্যে দু’টি গোলাম তার ও পরিবারের উপার্জনের উদ্দেশ্যে অর্থের বিনিময়ে রক্তমোক্ষণ করত এবং অপরটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও তার পরিবারের লোকদের রক্তমোক্ষণ করত।

রাবী বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলতেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রক্তমোক্ষণে অভিজ্ঞ দাস কতইনা ভাল! সে খারাপ রক্ত বের করে দিয়ে (উপার্জনের মাধ্যমে) পিঠের বোঝা হালকা করে এবং চোখের ময়লা দূর করে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৪৭৮) ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজে যাবার সময় তিনি ফেরেশতাদের যে দলকেই অতিক্রম করেন তারা বলেন, “আপনি অবশ্যই রক্তমোক্ষণ করাবেন”। সহীহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেনঃ সতের, ঊনিশ ও একুশ তারিখে তোমাদের রক্তমোক্ষণ করানো উত্তম। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা যেসমস্ত ঔষধ ব্যবহার কর তার মধ্যে উত্তম ঔষধ হচ্ছে নস্য, লাদুদ, রক্তমোক্ষণ ও জোলাপ। সহীহ আব্বাস (রাঃ) ও তার সঙ্গীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মুখ দিয়ে ঔষধ সেবন করান। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কে আমাকে ঔষধ সেবন করিয়েছে? সবাই এ কথায় চুপ থাকলেন। তিনি বলেন, যারা ঘরের মধ্যে উপস্থিত আছে তাদের মধ্যে তাঁর চাচা আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত আর সবাইকে লাদু পান করানো হবে। “তাঁকে আব্বাস (রাঃ) লাদুদ করেছেন” এই অংশ ব্যতীত সহীহ, আর ঐ অংশটুকু মুনকার। কেননা ঐ অংশটুকু আইশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস “আব্বাস ব্যতীত, কারণ তিনি তোমাদের নিকট উপস্থিত নেই”-এর বিপরীত। নাসরের মতে লাদূদ ও ওয়াজূর সমার্থবোধক। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আব্বাস ইবনু মানসূরের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। এ অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৫৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হিজামা। অনুবাদে এসেছে, ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর তিনজন গোলাম ছিল, যারা রক্তমোক্ষণের কাজ করত। তাদের মধ্যে দুজন অর্থের বিনিময়ে কাজ করে ইবন আব্বাস ও তাঁর পরিবারের উপার্জনে সহায়তা করত। আর একজন ইবন আব্বাস ও তাঁর পরিবারের লোকদের হিজামা করত। আরবি অংশে হিজামার গুরুত্ব, কিছু তারিখ এবং চিকিৎসার কয়েকটি উপায়ের কথাও এসেছে। তবে অনুবাদের মূল অংশ অনুযায়ী, এখানে হিজামা একটি কাজ ও চিকিৎসা সেবা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তাই ব্যাখ্যার মূল ফোকাস হলো—চিকিৎসা সেবা, দায়িত্ব এবং পরিবারের প্রয়োজন পূরণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হিজামা একটি পরিচিত চিকিৎসা কাজ ছিল।
  • চিকিৎসা সেবা পরিবারের প্রয়োজন পূরণেও কাজে লাগত।
  • নিজের পরিবার ও প্রয়োজনের জন্য সেবা ব্যবস্থার গুরুত্ব আছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন