২৮/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২১ - ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত ও সঠিক বংশপরিচয়
উত্তরাধিকারীদের জন্য ওয়াসিয়াত করার বৈধতা নেই
ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত নয়: উত্তরাধিকার ও বংশপরিচয়ের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১২১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১২১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَطَبَ عَلَى نَاقَتِهِ وَأَنَا تَحْتَ جِرَانِهَا وَهِيَ تَقْصَعُ بِجَرَّتِهَا وَإِنَّ لُعَابَهَا يَسِيلُ بَيْنَ كَتِفَىَّ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ وَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ وَالْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ وَمَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوِ انْتَمَى إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ رَغْبَةً عَنْهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً " .قَالَ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لاَ أُبَالِي بِحَدِيثِ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ فَوَثَّقَهُ وَقَالَ إِنَّمَا يَتَكَلَّمُ فِيهِ ابْنُ عَوْنٍ ثُمَّ رَوَى ابْنُ عَوْنٍ عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
আমর ইবনু খা-রিজাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উষ্ট্রীর পিঠে বসে থাকাবস্থায় খুতবা দেন। আমি এর ঘাড়ের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। উষ্ট্রী জাবর কাটছিল এবং আমার কাঁধের মাঝখান দিয়ে এর লালা গড়িয়ে পড়ছিল। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ সকল হকদারের হক আল্লাহ তা‘আলা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। অতএব, উত্তরাধিকারীদের জন্য ওয়াসিয়াত করা বৈধ নয়। সন্তান বৈধ বিছানার (মালিকের) এবং ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। যে ব্যক্তি নিজের বাবাকে পরিত্যাগ করে অন্যজনকে বাবা বলে পরিচয় দেয় অথবা যে গোলাম নিজ মনিবকে পরিত্যাগ করে অন্য মনিবের পরিচয় দেয় তার প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত। আল্লাহ তার ফরজ ও নফল কোন ইবাদতই কবুল করবেন না।
আবূ ঈসা বলেন, আহমাদ ইবনুল হাসানকে আমি বলতে শুনেছি, আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেছেন, আমি শাহর ইবনু হাওশাবের বর্ণিত হাদীসের কোন তোয়াক্কা করি না। আমি শাহর ইবনু হাওশাবের প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করলে তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, ইবনু আওন তার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তিনিই আবার হিলাল ইবনু আবী যাইনাব হতে শাহর ইবনু হাওশাবের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল কথা হলো, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারের হক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাই যে ব্যক্তি শরিয়ত অনুযায়ী উত্তরাধিকার পাবে, তার জন্য আলাদা করে ওসিয়ত করা বৈধ নয়। হাদিসে সন্তান কার সঙ্গে যুক্ত হবে, সে বিষয়েও পরিষ্কার নীতি দেওয়া হয়েছে: সন্তান বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের বিছানার মালিকের বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে নিজের প্রকৃত বাবাকে অস্বীকার করে অন্য কাউকে বাবা বলা বা আসল মনিবকে ছেড়ে অন্য মনিবের পরিচয় নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। ফলে উত্তরাধিকার বণ্টন, ওসিয়ত এবং বংশপরিচয়—তিনটি ক্ষেত্রেই সত্য, ন্যায় ও নির্ধারিত হক রক্ষা করতে হবে। পারিবারিক সুবিধা, সামাজিক মর্যাদা বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য পরিচয় বদলানো এই হাদিসের শিক্ষার বিপরীত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীর অংশ আলাদা ওসিয়তের মাধ্যমে বদলানো যাবে না।
- সন্তানের বংশপরিচয় বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করতে হবে।
- নিজের প্রকৃত পিতা বা মনিবের পরিচয় ইচ্ছাকৃতভাবে বদলানো গুরুতর অপরাধ।
- সম্পদ ও পরিচয়ের বিষয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে নির্ধারিত হককে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
