৩০/৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৪১ - তাকদীর ও শেষ আমলের গুরুত্ব
জান্নাতী ও জাহান্নামীদের জন্য একটি করে গ্রন্থ আল্লাহ তা‘আলা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।
তাকদীর নির্ধারিত হলেও নেক আমল কেন জরুরি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৪১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৪১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ، عَنْ شُفَىِّ بْنِ مَاتِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَفِي يَدِهِ كِتَابَانِ فَقَالَ «أَتَدْرُونَ مَا هَذَانِ الْكِتَابَانِ». فَقُلْنَا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلاَّ أَنْ تُخْبِرَنَا . فَقَالَ لِلَّذِي فِي يَدِهِ الْيُمْنَى «هَذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ فِيهِ أَسْمَاءُ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَسْمَاءُ آبَائِهِمْ وَقَبَائِلِهِمْ ثُمَّ أُجْمِلَ عَلَى آخِرِهِمْ فَلاَ يُزَادُ فِيهِمْ وَلاَ يُنْقَصُ مِنْهُمْ أَبَدًا " . ثُمَّ قَالَ لِلَّذِي فِي شِمَالِهِ «هَذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ فِيهِ أَسْمَاءُ أَهْلِ النَّارِ وَأَسْمَاءُ آبَائِهِمْ وَقَبَائِلِهِمْ ثُمَّ أُجْمِلَ عَلَى آخِرِهِمْ فَلاَ يُزَادُ فِيهِمْ وَلاَ يُنْقَصُ مِنْهُمْ أَبَدًا».فَقَالَ أَصْحَابُهُ فَفِيمَ الْعَمَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَ أَمْرٌ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ فَقَالَ " سَدِّدُوا وَقَارِبُوا فَإِنَّ صَاحِبَ الْجَنَّةِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ عَمِلَ أَىَّ عَمَلٍ وَإِنَّ صَاحِبَ النَّارِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ وَإِنْ عَمِلَ أَىَّ عَمَلٍ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِيَدَيْهِ فَنَبَذَهُمَا ثُمَّ قَالَ " فَرَغَ رَبُّكُمْ مِنَ الْعِبَادِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ " . حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ عَنْ أَبِي قَبِيلٍ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو قَبِيلٍ اسْمُهُ حُيَىُّ بْنُ هَانِئٍ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুটি গ্রন্থ তাঁর দুই হাতে নিয়ে আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা এই দুটি গ্রন্থের ব্যাপারে কি জান? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তবে যদি আপনি আমাদেরকে জানিয়ে দিন। তিনি তাঁর ডানহাতের গ্রন্থের দিকে ইশারা করে বললেনঃ এটা রাব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ হতে একটি কিতাব। এতে জান্নাতী সকল ব্যক্তির নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম ও তাদের গোত্রের নাম লিখা আছে। আর শেষে এর যোগফল রয়েছে এবং এতে কম-বেশি করা হবে না।তারপর তিনি তাঁর বামহাতের গ্রন্থের দিকে ইশারা করে বললেনঃ এটাও আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ হতে একটি গ্রন্থ। এতে জাহান্নামী সকল ব্যক্তির নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম ও গোত্রের নাম লিখা আছে। এর শেষেও যোগফল রয়েছে। এতে কখনো কমানো-বাড়ানো হবে না। তাঁর সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! বিষয়টি এরূপভাবেই চূড়ান্ত হয়ে থাকলে তবে আর আমলের কি প্রয়োজন? তিনি বললেনঃ তোমরা সঠিক পথে থেকে সঠিকভাবে কাজ করতে থাক এবং আল্লাহ্ তা‘আলার নৈকট্য হাসিলে চেষ্টা কর। কেননা, জান্নাতী লোকের শেষ মুহূর্তের আমল জান্নাতীদের আমলই হবে, সে পূর্বে যে আমলই করুক না কেন। আবার জাহান্নামীর শেষ মুহূর্তের কাজ জাহান্নামীদের আমলই হবে, সে পূর্বে যে আমলই করুক না কেন।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুইহাতে ইশারা করেন এবং কিতাব দুটি ফেলে দিয়ে বলেনঃ তোমাদের প্রভু তাঁর বান্দাহদের আমল চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। একদল জান্নাতে প্রবেশ করবে আর অন্যদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
কুতাইবা-বাক্র ইবনু মুযার হতে, তিনি আবূ কাবীল (রহঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আর আবূ কাবীলের নাম হুয়াই ইবনু হানী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তাকদীর, নেক আমল এবং মানুষের শেষ পরিণতি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুটি গ্রন্থের কথা বলেছেন। একটিতে জান্নাতীদের এবং অন্যটিতে জাহান্নামীদের নাম, বংশ ও গোত্র লেখা রয়েছে। সাহাবিগণ জানতে চেয়েছিলেন, সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে থাকলে আমল করার প্রয়োজন কী। জবাবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আমল ছেড়ে দিতে বলেননি। বরং সঠিক পথে থেকে যথাসাধ্য সঠিকভাবে কাজ করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা চালিয়ে যেতে বলেছেন। হাদিসটি আরও জানায়, মানুষের শেষ সময়ের আমল তার পরিণতির সঙ্গে মিলবে। তাই তাকদীরের অজুহাতে অলস হওয়া এই হাদিসের শিক্ষা নয়। বরং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ভালো পথে থাকা, নেক আমল করা এবং সঠিক পরিণতির জন্য চেষ্টা করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীর নির্ধারিত হলেও নেক আমল ও সঠিক পথের চেষ্টা বন্ধ করা যাবে না।
- মানুষের শেষ সময়ের আমল তার পরিণতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
- আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নিয়মিত ও যথাসাধ্য সঠিকভাবে কাজ করতে হবে।
- নিজের অজানা পরিণতি নিয়ে অনুমান না করে ভালো আমলে অবিচল থাকা উচিত।
