৩১/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৬৫ - ঐক্য, সতর্কতা ও মুমিনের পরিচয়
সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তা
জামাআত আঁকড়ে ধরা ও মুমিনের পরিচয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৬৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৬৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ خَطَبَنَا عُمَرُ بِالْجَابِيَةِ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قُمْتُ فِيكُمْ كَمَقَامِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِينَا فَقَالَ «أُوصِيكُمْ بِأَصْحَابِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَفْشُو الْكَذِبُ حَتَّى يَحْلِفَ الرَّجُلُ وَلاَ يُسْتَحْلَفُ وَيَشْهَدَ الشَّاهِدُ وَلاَ يُسْتَشْهَدُ أَلاَ لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْفُرْقَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنَ الاِثْنَيْنِ أَبْعَدُ مَنْ أَرَادَ بُحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ مَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ وَسَاءَتْهُ سَيِّئَتُهُ فَذَلِكَ الْمُؤْمِنُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘জাবিয়া’ (সিরিয়ার অন্তর্গত) নামক জায়গায় উমর (রাঃ) আমাদের সামনে খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বলেনঃ হে উপস্থিত জনতা! যেভাবে আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়াতেন, সেভাবে তোমাদের মাঝে আমিও দাঁড়িয়েছি। তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেনঃ আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি (তাদের জমানা শ্রেষ্ঠ জমানা), তারপর তাদের পরবর্তী জমানা, তারপর তাদের পরবর্তী জমানা, তারপর মিথ্যাচারের বিস্তার ঘটবে। এমনকি কাউকে শপথ করতে না বলা হলেও সে শপথ করবে, আর সাক্ষ্য প্রদান করতে না বলা হলেও সাক্ষ্য প্রদান করবে।সাবধান! কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হলে সেখানে অবশ্যই তৃতীয়জন হিসাবে শয়তান অবস্থান করে (এবং পাপাচারে প্ররোচনা দেয়)। তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা হতে সাবধান থেকো। কেননা, শয়তান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে অবস্থান করে। যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে (মুসলিম সমাজে)। যার সৎ আমল তাকে আনন্দিত করে এবং বদ আমল কষ্ট দেয় সেই হলো প্রকৃত ঈমানদার।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু সুকার সূত্রে ইবনুল মুবারাকও বর্ণনা করেছেন। একাধিক সূত্রে উমার (রাঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের ব্যাপারে উপদেশ দিয়েছেন, তারপর তাদের পরবর্তী যুগগুলোর কথা বলেছেন। এরপর মিথ্যাচারের বিস্তার, অকারণে শপথ ও সাক্ষ্য দেওয়ার মতো বিষয় থেকে সতর্ক করেছেন। আরও বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে থাকলে তৃতীয়জন শয়তান হয়। হাদিসে জামাআত বা মুসলিম সমাজের সঙ্গে থাকার নির্দেশ এসেছে এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে সাবধান করা হয়েছে। শেষে মুমিনের একটি সহজ পরিচয় দেওয়া হয়েছে: সৎ আমল তাকে আনন্দিত করে এবং মন্দ আমল তাকে কষ্ট দেয়। এই হাদিস ব্যক্তি ও সমাজ—দুই দিকেই সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীদের মর্যাদা ও তাদের সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা দরকার।
- মিথ্যা শপথ ও অযথা সাক্ষ্য থেকে দূরে থাকতে হবে।
- জামাআতের সঙ্গে থাকা এবং বিচ্ছিন্নতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
- সৎ আমলে আনন্দ ও মন্দ কাজে কষ্ট পাওয়া মুমিনের লক্ষণ।
