৩১/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৭৫ - উম্মতের জন্য নবীর দোয়া
উম্মাতের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তিনটি দোয়া
উম্মতের জন্য নবীজির দোয়া ও পারস্পরিক ফিতনার সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৭৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৭৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ رَاشِدٍ، يُحَدِّثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابِ بْنِ الأَرَتِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ صَلاَةً فَأَطَالَهَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّيْتَ صَلاَةً لَمْ تَكُنْ تُصَلِّيهَا قَالَ «أَجَلْ إِنَّهَا صَلاَةُ رَغْبَةٍ وَرَهْبَةٍ إِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ فِيهَا ثَلاَثًا فَأَعْطَانِي اثْنَتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً سَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُهْلِكَ أُمَّتِي بِسَنَةٍ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ فَمَنَعَنِيهَا».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَابْنِ عُمَرَ .
আব্দুল্লাহ ইবনু খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা খুব দীর্ঘায়িত করে নামায আদায় করেন। সাহাবিগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি তো কখনো এভাবে নামায আদায় করেননি! তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এ নামায ছিলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও ভীতিপূর্ণ। আমি এতে তিনটি বিষয়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ তা’আলার নিকট আবেদন করেছি। তিনি আমাকে দুটি দিয়েছেন এবং একটি দেননি। আমি তাঁর নিকট আবেদন করেছি, তিনি আমার উম্মতকে যেন দুর্ভিক্ষে নিক্ষেপ করে ধ্বংস না করে দেন। আমার এ দোয়া তিনি কবুল করেছেন।তারপর আমি আবেদন করেছি যে, তিনি বিজাতীয় শত্রুদেরকে যেন তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে না দেন। আমার এ দোয়াও তিনি কবুল করেছেন। আমি আরো আবেদন জানিয়েছি যে, তারা যেন পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহের আস্বাদ না নেয়। আমার এ দোয়া তিনি কবুল করেননি।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। সা’দ (রাঃ) ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দীর্ঘ সালাতের কথা এসেছে। সাহাবীগণ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ছিল আশা ও ভয়ের সালাত। তিনি আল্লাহর কাছে তিনটি বিষয় চেয়েছিলেন। প্রথমত, উম্মতকে দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করা; এটি কবুল হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাইরের শত্রুকে তাদের উপর এমনভাবে কর্তৃত্ব না দেওয়া; এটিও কবুল হয়েছে। তৃতীয়ত, উম্মত যেন পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে না জড়ায়; এটি কবুল হয়নি। এই হাদিস উম্মতের প্রতি নবীর মমতা দেখায় এবং পারস্পরিক সংঘাতের ব্যাপারে গভীর সতর্কতা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের জন্য দোয়া করেছেন।
- দুর্ভিক্ষ ও বাইরের শত্রু সম্পর্কে বিশেষ দোয়ার কথা এসেছে।
- পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহ উম্মতের জন্য বড় ফিতনা।
