৩১/৩০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৯৬ - ফিতনার রাতে জাগরণের শিক্ষা
অনতিবিলম্বেই অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপর্যয় দেখা দিবে
ফিতনার রাতে জাগরণ ও সতর্কতার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৯৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৯৬
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ هِنْدِ بِنْتِ الْحَارِثِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ اسْتَيْقَظَ لَيْلَةً فَقَالَ «سُبْحَانَ اللَّهِ مَاذَا أُنْزِلَ اللَّيْلَةَ مِنَ الْفِتْنَةِ مَاذَا أُنْزِلَ مِنَ الْخَزَائِنِ مَنْ يُوقِظُ صَوَاحِبَ الْحُجُرَاتِ يَا رُبَّ كَاسِيَةٍ فِي الدُّنْيَا عَارِيَةٍ فِي الآخِرَةِ».هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) একরাতে ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! আজ রাতে কতই না বিপর্যয় নাযিল হয়েছে, কতই না অনুগ্রহের ভান্ডার অবতীর্ণ হয়েছে? এরূপ কে আছে যে এই গৃহবাসীদের জাগ্রত করবে? পৃথিবীতে অনেক পোশাক পরিহিতা, পরকালে থাকবে উলঙ্গ।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এসেছে, নবী (صلى الله عليه وسلم) এক রাতে ঘুম থেকে জেগে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! আজ রাতে কত ফিতনা নাযিল হয়েছে, কত খাজানা নাযিল হয়েছে!’ এরপর তিনি ঘরবাসিনীদের জাগানোর কথা বলেন। শেষে বলেন, পৃথিবীতে অনেক পোশাক পরিহিতা, পরকালে উলঙ্গ থাকবে। হাদিসটি মানুষকে বাহ্যিক সাজসজ্জা বা দুনিয়ার আরামে থেমে না থেকে আখিরাতের কথা ভাবতে শেখায়। ফিতনার সময় ঘুমিয়ে থাকা নয়, বরং আল্লাহর দিকে ফেরা, সতর্ক হওয়া এবং নিজের ঘরের মানুষকেও ভালো পথে ডাকাই এখানে মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনার সময় আল্লাহকে স্মরণ করা দরকার।
- ঘরের মানুষকে ভালো কাজে জাগানো প্রশংসনীয়।
- দুনিয়ার বাহ্যিক পোশাক আখিরাতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
- রাতের সময়ও ইবাদত ও সতর্কতার সুযোগ হতে পারে।
