২/৫৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২৭ - নামাজের কাতার সোজা রাখার গুরুত্ব
কাতার সমান্তরাল করা সম্পর্কে
নামাজের কাতার সোজা রাখা কেন জরুরি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২২৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২২৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُسَوِّي صُفُوفَنَا فَخَرَجَ يَوْمًا فَرَأَى رَجُلاً خَارِجًا صَدْرُهُ عَنِ الْقَوْمِ فَقَالَ " لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَالْبَرَاءِ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ " مِنْ تَمَامِ الصَّلاَةِ إِقَامَةُ الصَّفِّ " . وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يُوَكِّلُ رِجَالاً بِإِقَامَةِ الصُّفُوفِ فَلاَ يُكَبِّرُ حَتَّى يُخْبَرَ أَنَّ الصُّفُوفَ قَدِ اسْتَوَتْ. وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ أَنَّهُمَا كَانَا يَتَعَاهَدَانِ ذَلِكَ وَيَقُولاَنِ اسْتَوُوا. وَكَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ تَقَدَّمْ يَا فُلاَنُ تَأَخَّرْ يَا فُلاَنُ.
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাতারসমূহ সমান করে দিতেন। একদিন তিনি (ঘর হতে) বের হয়ে এসে দেখলেন, এক ব্যক্তির বুক কাতারের বাইরে এগিয়ে রয়েছে। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের সারিগুলো সোজা করে দাঁড়াবে, অন্যথায় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের মুখমণ্ডলে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন।
এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু সামুরা, বারাআ, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আনাস, আবূ হুরায়রা ও’ আয়িশাহ্ (রাঃ) হতেও বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ নু’মান ইবনু বাশীরের হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ কাতার ঠিক করা নামাজ পরিপূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত। ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি কাতার ঠিক করার জন্য একজন লোক নিযুক্ত করতেন। যে পর্যন্ত না তাঁকে জানানো না হত যে, কাতার সোজা হয়েছে সে পর্যন্ত তিনি তাকবির (তাহরীমা) বলতেন না। উসমান এবং আলী (রাঃ) এদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন এবং তাঁরা বলতেন, তোমরা সোজা হও। আলী (রাঃ) তো নাম ধরেই বলতেন, অমুক একটু আগাও, অমুক একটু পিছাও।’’
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামাতে নামাজের কাতার সোজা করার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের কাতারগুলো সমান করে দিতেন। একদিন তিনি দেখলেন, একজনের বুক কাতারের বাইরে এগিয়ে আছে। তখন তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের সারিগুলো সোজা করে দাঁড়াবে, নইলে আল্লাহ তোমাদের মুখমণ্ডলে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন। এখানে কাতার সোজা করা শুধু বাহ্যিক শৃঙ্খলা নয়; এটি মুসলিমদের একতা ও মন মিল রাখার সাথেও যুক্ত। নামাজে একসাথে দাঁড়ানোর সময় কেউ সামনে, কেউ পেছনে থাকলে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সালাতের আগে কাতার ঠিক করা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো এবং ইমামের নির্দেশ মানা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে নামাজের আগে কাতার সোজা করা জরুরি।
- কাতার এলোমেলো হলে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদের আশঙ্কা তৈরি হয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজে কাতার ঠিক করার প্রতি যত্ন নিতেন।
- সালাতে শৃঙ্খলা একতা ও আদবের শিক্ষা দেয়।
