৩৪/৬৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪১৪ - মানুষের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার
আইশা ও মুআবিয়া (রাঃ)-এর পত্রালাপ
আল্লাহর সন্তুষ্টি আগে, মানুষের সন্তুষ্টি পরে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪১৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪১৪
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الْوَرْدِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قَالَ كَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله عنها أَنِ اكْتُبِي إِلَىَّ كِتَابًا تُوصِينِي فِيهِ وَلاَ تُكْثِرِي عَلَىَّ . فَكَتَبَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها إِلَى مُعَاوِيَةَ سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ». وَالسَّلاَمُ عَلَيْكَ .حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَتَبَتْ إِلَى مُعَاوِيَةَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
জনৈক মাদীনাবাসী হতে বর্ণিতঃ
কোন এক সময় উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রাঃ)-কে মু'আবিয়া (রাঃ) লিখে পাঠান : আমাকে লিখিতভাবে কিছু উপদেশ দিন, তবে তা যেন দীর্ঘ না হয়। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আইশা (রাঃ) মু'আবিয়া (রাঃ)-কে লিখলেন : আপনাকে সালাম। তারপর এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টি হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট হতে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ্ তা'আলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি আশা করে আল্লাহ্ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করে হলেও, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে মানুষের দায়িত্বে ছেড়ে দেন। আপনাকে আবারো সালাম।
মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া-মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফিয়ান সাওরী হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি আইশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি মু’আবিয়াকে চিঠি লিখলেন.. উপরোক্ত হাদীসের মতোই, তবে তা মারফূ হিসাবে নয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি শেখানো হয়েছে। কেউ যদি মানুষের অসন্তুষ্টি হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, তাহলে মানুষের কারণে আসা দুশ্চিন্তা ও চাপ থেকে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন। আর কেউ যদি মানুষকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, তাহলে তাকে মানুষের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এর অর্থ মানুষের অনুভূতি বা অধিকারকে অগ্রাহ্য করা নয়। বরং যখন আল্লাহর নির্দেশ এবং মানুষের অন্যায় চাহিদার মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অনেক সময় প্রশংসা, জনপ্রিয়তা বা সম্পর্ক রক্ষার জন্য মানুষ ভুল কাজে রাজি হয়ে যায়। হাদিসটি এমন মানসিক দুর্বলতা থেকে সতর্ক করে। সঠিক কাজ করতে গিয়ে সবাই খুশি নাও হতে পারে, কিন্তু মানুষের সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনা নিরাপদ পথ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের চাপের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
- মানুষকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া উচিত নয়।
- সিদ্ধান্তের সময় জনপ্রিয়তার বদলে সঠিকতা ও আল্লাহভীতি দেখা দরকার।
