৩৫/২. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪২১ - কেয়ামতের দিন সূর্য ও আমল অনুযায়ী ঘাম

হিসাব-নিকাশ ও প্রতিশোধ প্রসঙ্গে

কেয়ামতের দিন সূর্য ও আমল অনুযায়ী ঘামের ভয়াবহ অবস্থা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪২১

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا الْمِقْدَادُ، صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أُدْنِيَتِ الشَّمْسُ مِنَ الْعِبَادِ حَتَّى تَكُونَ قِيدَ مِيلٍ أَوِ اثْنَيْنِ " .قَالَ سُلَيْمٌ لاَ أَدْرِي أَىَّ الْمِيلَيْنِ عَنَى أَمَسَافَةَ الأَرْضِ أَمِ الْمِيلَ الَّذِي تُكْتَحَلُ بِهِ الْعَيْنُ قَالَ " فَتَصْهَرُهُمُ الشَّمْسُ فَيَكُونُونَ فِي الْعَرَقِ بِقَدْرِ أَعْمَالِهِمْ فَمِنْهُمْ مَنْ يَأْخُذُهُ إِلَى عَقِبَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَأْخُذُهُ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَأْخُذُهُ إِلَى حَقْوَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يُلْجِمُهُ إِلْجَامًا " . فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى فِيهِ أَىْ يُلْجِمُهُ إِلْجَامًا.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ.

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী মিকদাদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামত দিবসে সূর্যকে মানুষের এত নিকটে আনা হবে যে, তা মাত্র এক অথবা দু’মাইল ব্যবধানে থাকবে। সুলাইম ইবনু আমির (রহঃ) বলেন, আমি জানি না উক্ত মাইল দ্বারা জমিনের দূরত্ব জ্ঞাপক মাইল বুঝানো হয়েছে, না চোখের সুরমা লাগানোর শলাকা বুঝানো হয়েছে। তিনি বলেন, সূর্য তাদের গলিয়ে দেবে। তারা তখন নিজেদের আমল (গুনাহ) অনুপাতে ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাবে। আর তা কারো পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত, কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত এবং কারো মুখ পর্যন্ত ঘাম পৌঁছে লাগামের মতো বেষ্টন করবে। এই কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত দ্বারা মুখের দিকে ইশারা করেন, অর্থাৎ লাগামের মতো বেষ্টন করাকে বুঝালেন।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ সাঈদ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪২১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কেয়ামতের দিনের এক ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেদিন সূর্য মানুষের খুব কাছে আনা হবে। বর্ণনায় এক বা দুই মাইল দূরত্বের কথা এসেছে। তবে এখানে মাইল বলতে জমিনের দূরত্ব নাকি চোখে সুরমা লাগানোর শলাকা—বর্ণনাকারী তা নিশ্চিত করেননি। সূর্যের তাপে মানুষ প্রচণ্ড কষ্টে পড়বে এবং তাদের ঘাম হবে নিজ নিজ আমল অনুযায়ী। কারও ঘাম গোড়ালি পর্যন্ত, কারও হাঁটু পর্যন্ত, কারও কোমর পর্যন্ত উঠবে। আবার কারও মুখ পর্যন্ত পৌঁছে লাগামের মতো বেষ্টন করবে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হাত দিয়ে মুখের দিকে ইশারা করে বিষয়টি বুঝিয়েছেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, কেয়ামতের দিনের হিসাব বাস্তব এবং মানুষের আমল তার অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হবে। এই বর্ণনা নিজের গুনাহ ও কাজ সম্পর্কে সচেতন হতে মনে করিয়ে দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কেয়ামতের দিনের কষ্ট মানুষের আমল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
  • সূর্য খুব কাছে আসার কারণে হাশরের ময়দানে প্রচণ্ড কষ্ট হবে।
  • নিজের কাজ ও গুনাহের জবাবদিহির কথা মনে রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন