৩৫/৪৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৯৩ - রাগ দমনের ফজিলত ও পুরস্কার
ক্রোধ সংবরণকারীর মর্যাদা
রাগ দমনের ফজিলত: ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংযম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪৯৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৯৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو مَرْحُومٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُنَفِّذَهُ دَعَاهُ اللَّهُ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ فِي أَىِّ الْحُورِ شَاءَ» . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
মু'আয ইবনু আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাগ কার্যকর করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা দমন করে, আল্লাহ্ তা'আলা কেয়ামতের দিন তাকে আহ্বান করে সকল মাখলুকের (সৃষ্টি) সামনে আনবেন এবং তাকে তার ইচ্ছামতো যে কোন হূর বেছে নেয়ার ক্ষমতা (স্বাধীনতা) দিবেন।
আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাগ দমনের একটি বিশেষ অবস্থা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি শুধু দুর্বল বলে চুপ থাকল—এ কথা নয়। বরং সে নিজের রাগ কার্যকর করার সামর্থ্য রাখে, তবু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং রাগের দাবি অনুযায়ী কাজ করে না। এই সংযমের জন্য আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে সব সৃষ্টির সামনে ডাকবেন এবং তার ইচ্ছামতো হূর বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবেন। তাই রাগ দমন মানে অনুভূতি না থাকা নয়; রাগ থাকা সত্ত্বেও তা অন্যায়ভাবে প্রকাশ না করা। হাদিসের মূল শব্দ হলো সামর্থ্য থাকা এবং তবু নিজেকে থামানো। দৈনন্দিন জীবনে অপমান, ঝগড়া বা প্রতিশোধের সুযোগ এলে এই শিক্ষা মনে রাখা যায়। ক্ষমতা দেখানো সহজ, কিন্তু নিজের নফসকে থামানোই এখানে প্রশংসিত হয়েছে। রাগ নিয়ন্ত্রণ আখিরাতের সম্মানের কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিশোধের ক্ষমতা থাকলেও রাগের বশে কাজ না করা বড় সংযম।
- রাগ দমন কেয়ামতে সম্মান ও পুরস্কারের কারণ হতে পারে।
- ক্ষমতা দেখানোর বদলে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
