৩৫/৪৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৯৬ - কিফলের তাওবা ও আল্লাহর ক্ষমা
ক্রোধ সংবরণকারীর মর্যাদা
কিফলের তাওবা: গুনাহ ছেড়ে ফিরে আসার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪৯৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৯৬
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَسْبَاطِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ، عَنْ سَعْدٍ، مَوْلَى طَلْحَةَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يُحَدِّثُ حَدِيثًا لَوْ لَمْ أَسْمَعْهُ إِلاَّ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ حَتَّى عَدَّ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَلَكِنِّي سَمِعْتُهُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «كَانَ الْكِفْلُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ لاَ يَتَوَرَّعُ مِنْ ذَنْبٍ عَمِلَهُ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَأَعْطَاهَا سِتِّينَ دِينَارًا عَلَى أَنْ يَطَأَهَا فَلَمَّا قَعَدَ مِنْهَا مَقْعَدَ الرَّجُلِ مِنِ امْرَأَتِهِ أُرْعِدَتْ وَبَكَتْ فَقَالَ مَا يُبْكِيكِ أَأَكْرَهْتُكِ قَالَتْ لاَ وَلَكِنَّهُ عَمَلٌ مَا عَمِلْتُهُ قَطُّ وَمَا حَمَلَنِي عَلَيْهِ إِلاَّ الْحَاجَةُ فَقَالَ تَفْعَلِينَ أَنْتِ هَذَا وَمَا فَعَلْتِهِ اذْهَبِي فَهِيَ لَكِ . وَقَالَ لاَ وَاللَّهِ لاَ أَعْصِي اللَّهَ بَعْدَهَا أَبَدًا . فَمَاتَ مِنْ لَيْلَتِهِ فَأَصْبَحَ مَكْتُوبًا عَلَى بَابِهِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لِلْكِفْلِ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . قَدْ رَوَاهُ شَيْبَانُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ نَحْوَ هَذَا وَرَفَعُوهُ وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ فَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَرَوَى أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ فَأَخْطَأَ فِيهِ وَقَالَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَهُوَ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيُّ هُوَ كُوفِيٌّ وَكَانَتْ جَدَّتُهُ سُرِّيَّةً لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَرَوَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ عُبَيْدَةُ الضَّبِّيُّ وَالْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ كِبَارِ أَهْلِ الْعِلْمِ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একটি হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি। আমি সে হাদিসটি তাঁকে একবার, দু’বার, এমনকি সাতবারের বেশি বর্ণনা করতে শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ বনী ইসরাঈলের মধ্যে ‘কিফ্ল’ নামক জনৈক ব্যক্তি কোন গুনাহ হতে বিরত থাকত না। কোন এক সময় জনৈকা মহিলা (দারিদ্র্যক্লিষ্ট হয়ে) তার নিকটে আসলো। সে তাকে যেনা করার শর্তে ষাট দীনার দিল। স্বামী যেমন স্ত্রীর উপর উঠে সে যখন তেমনই উঠল তখন মহিলা কাঁপতে লাগল এবং কেঁদে ফেলল।সে প্রশ্ন করল, তুমি কাঁদছ কেন? আমি কি তোমার উপর জোরযবরদস্তি করছি? মহিলা বলল, না; কিন্তু এ গুনাহর কাজটি আমি কখনো করিনি। প্রয়োজন ও অভাব আজ আমাকে এ কাজ করতে বাধ্য করেছে। সে বলল, অভাবে পড়েই তুমি এসেছ এবং কখনও তা করনি? তুমি চলে যাও এবং যা দিয়েছি এগুলো তোমার। সে বলল, আল্লাহ্ তা’আলার কসম! এরপর হতে আমি আর কখনো আল্লাহ্ তা’আলার নাফারমানী করব না। ঐ রাতেই সে মারা গেল সকাল হলে দেখা গেল তার বাড়ির দরজায় লেখা রয়েছেঃ “আল্লাহ্ তা’আলা কিফ্লকে মাফ করে দিয়েছেন”।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান। শাইবান ও অন্যান্য রাবী এটিকে আ’মাশের সূত্রে মারফূ হাদিস হিসাবে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। কোন কোন রাবী এ হাদিস আ’মাশের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফূ হিসাবে নয়। আবূ বাক্র ইবনু আইয়্যাশ এ হাদিস আ’মাশের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সনদ বর্ণনায় ভুল করেছেন এবং বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ-সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে তিনি ইবনু উমার (রাঃ) হতে। এটি সুরক্ষিত সনদ নয়। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ আর-রাযী কূফার অধিবাসী এবং তার দাদী ছিলেন আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর দাসী। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ আর-রাযীর বরাতে উবাইদা আয-যাব্বী, হাজ্জাজ ইবনু আরতাত ও অপরাপর বিদ্বানগণ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনি ইসরাইলের কিফল নামের এক ব্যক্তির ঘটনা এসেছে, যে গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখত না। এক দরিদ্র নারী প্রয়োজনের কারণে তার কাছে এলে সে হারাম কাজের শর্তে ষাট দিনার দেয়। কাজটি হওয়ার ঠিক আগে নারী কাঁপতে ও কাঁদতে থাকে। সে জানায়, আগে কখনো এমন কাজ করেনি; অভাব তাকে বাধ্য করেছে। এই কথা কিফলের অন্তর বদলে দেয়। সে তাকে চলে যেতে বলে, টাকা ফেরত নেয় না এবং আল্লাহর কসম করে জানায় যে এরপর আর আল্লাহর নাফরমানি করবে না। সেই রাতেই সে মারা যায় এবং সকালে তার দরজায় লেখা পাওয়া যায় যে আল্লাহ কিফলকে ক্ষমা করেছেন। হাদিসটি দেখায়, গুনাহের পথে থেকেও মানুষ থামতে পারে, অন্যের অসহায়ত্ব বুঝে অন্যায় ছেড়ে দিতে পারে এবং সত্যভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহের সুযোগ তৈরি হলেও তা থেকে সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসা সম্ভব।
- অসহায় মানুষের দুরবস্থা বুঝে তাকে শোষণ না করে সাহায্য করা উচিত।
- গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর নাফরমানি না করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত ক্ষমার কারণ হতে পারে।
