৩৬/১৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫৫১ - আল্লাহকে দেখা ও ফজর-আসরের গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলার দীদার (সাক্ষাৎ) লাভ
আল্লাহকে দেখা এবং ফজর-আসরের নামাজ রক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৫৫১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫৫১
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ " إِنَّكُمْ سَتُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّكُمْ فَتَرَوْنَهُ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لاَ تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَصَلاَةٍ قَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا» . ثُمَّ قَرَأََ: (سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ﴿ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা এক পূর্ণিমার রাতে নবী (ﷺ) এর সামনে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি চাঁদের দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেনঃ তোমাদেরকে খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সামনে উপস্থিত করা হবে। তখন তোমরা অবাধে তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে, যেমনভাবে এই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছো। তাঁকে দেখার মধ্যে কোন রকম সংশয় থাকবে না। তোমরা দুনিয়ার কাজে পরাভূত না হয়ে সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাজ অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় কর।তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ “সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রভুর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর”– (সূরা ক্বাফ ৩৯)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫৫১-এর সারসংক্ষেপ
পূর্ণিমার রাতে সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে বসেছিলেন। তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেন, তারা তাদের রবের সামনে উপস্থিত হবে এবং তাঁকে এমন স্পষ্টভাবে দেখবে, যেমন পূর্ণিমার চাঁদ দেখে; দেখার ক্ষেত্রে কোনো সংশয় বা চাপ থাকবে না। এরপর তিনি একটি বাস্তব নির্দেশ দেন—দুনিয়ার কাজ যেন সূর্যোদয়ের আগের নামাজ এবং সূর্যাস্তের আগের নামাজ থেকে মানুষকে হারিয়ে না দেয়। এখানে ওই দুই নামাজ হলো ফজর ও আসর। আল্লাহকে দেখার হাদিসের সঙ্গে ফজর ও আসরের গুরুত্ব একসঙ্গে এসেছে। তাই এই বর্ণনা শুধু ভবিষ্যতের নেয়ামতের কথা নয়; আজকের আমলও ঠিক করতে বলে। শেষে নবী صلى الله عليه وسلم সূরা ক্বাফের আয়াত পড়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে রবের প্রশংসা করার কথা স্মরণ করান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনরা তাদের রবকে স্পষ্টভাবে দেখবে—পূর্ণিমার চাঁদের উদাহরণে তা বোঝানো হয়েছে।
- দুনিয়ার ব্যস্ততা যেন ফজর ও আসরের নামাজ নষ্ট না করে।
- আখিরাতের আশা বর্তমান জীবনের নিয়মিত ইবাদতের সঙ্গে যুক্ত।
