৩৬/২৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫৬৮ - আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন ও ঘৃণা করেন
জান্নাতের ঝর্ণাসমূহের বর্ণনা
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন ও ঘৃণা করেন: ছয় ধরনের মানুষ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৫৬৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫৬৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، قَالَ سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ، يُحَدِّثُ عَنْ زَيْدِ بْنِ ظَبْيَانَ، يَرْفَعُهُ إِلَى أَبِي ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «ثَلاَثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ وَثَلاَثَةٌ يَبْغَضُهُمُ اللَّهُ فَأَمَّا الَّذِينَ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ فَرَجُلٌ أَتَى قَوْمًا فَسَأَلَهُمْ بِاللَّهِ وَلَمْ يَسْأَلْهُمْ بِقَرَابَةٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ فَمَنَعُوهُ فَتَخَلَّفَ رَجُلٌ بِأَعْقَابِهِمْ فَأَعْطَاهُ سِرًّا لاَ يَعْلَمُ بِعَطِيَّتِهِ إِلاَّ اللَّهُ وَالَّذِي أَعْطَاهُ وَقَوْمٌ سَارُوا لَيْلَتَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَ النَّوْمُ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِمَّا يُعْدَلُ بِهِ نَزَلُوا فَوَضَعُوا رُءُوسَهُمْ فَقَامَ أَحَدُهُمْ يَتَمَلَّقُنِي وَيَتْلُو آيَاتِي وَرَجُلٌ كَانَ فِي سَرِيَّةٍ فَلَقِيَ الْعَدُوَّ فَهُزِمُوا وَأَقْبَلَ بِصَدْرِهِ حَتَّى يُقْتَلَ أَوْ يُفْتَحَ لَهُ . وَالثَّلاَثَةُ الَّذِينَ يَبْغَضُهُمُ اللَّهُ الشَّيْخُ الزَّانِي وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ وَالْغَنِيُّ الظَّلُومُ " .حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، عَنْ شُعْبَةَ، نَحْوَهُ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا رَوَى شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، نَحْوَ هَذَا وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা তিন প্রকার লোককে ভালবাসেন এবং তিন প্রকার লোককে ঘৃণা করেন। যাদের আল্লাহ তা’আলা ভালবাসেন তারা হলঃ(১) কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের নিকটে এসে আল্লাহ্ তা’আলার ওয়াস্তে কিছু চাইল, তবে আত্মীয়তার সম্পর্কের দোহাই দিয়ে চায়নি। তারা তাকে কিছুই দিল না। এ সম্প্রদায়ের একটি লোক তাদের হতে আলাদা হয়ে গোপনে তাকে কিছু দান করল এবং তার দান প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা ও গ্রহণকারী ব্যতীত আর কেউ জানতে পারল না।(২) একটি দল সারারাত সফররত থাকল, তারপর সকল কিছুর তুলনায় ঘুম যখন তাদের প্রিয় হয়ে গেল, ফলে সব লোক (বালিশে) মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল; কিন্তু তাদেরই একজন আমার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নামাজে দাঁড়ায় এবং আমার কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে।(৩) আর এক ব্যক্তি কোন সেনাবাহিনীতে যোগদান করল। তারপর শত্রুর মুকাবিলা করে তার পক্ষের লোকেরা পরাজিত হল; কিন্তু সে বুক ফুলিয়ে সামনে এগিয়ে গেলো। তারপর সে হয় শহীদ হল কিংবা বিজয়ী হল।আর আল্লাহ তা’আলা যে তিনজনকে ঘৃণা করেন তারা হলঃ(১) বৃদ্ধ যেনাকারী;(২) অহংকারী ভিক্ষুক এবং(৩) অত্যাচারী সম্পদশালী ব্যক্তি।
মাহমূদ ইবনু গাইলান-নাযর ইবনু শুমাইল হতে তিনি শুবা (রহঃ) হতে উপরে বর্ণিত হাদিসের সমার্থক হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদিসটি সহীহ। শাইবান (রহঃ)- ও মানসূরের সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি আবূ বাক্র ইবনু আইয়্যাশের সূত্রে বর্ণিত হাদিসের তুলনায় অনেক বেশী সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫৬৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ভালোবাসা ও ঘৃণা। হাদিসে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া তিন ব্যক্তি এবং ঘৃণার পাত্র তিন ব্যক্তির কথা এসেছে। ভালোবাসার প্রথম ব্যক্তি গোপনে এমন একজন অভাবীকে দান করে, যাকে অন্যরা ফিরিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি ক্লান্ত সফরের পর সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজে দাঁড়িয়ে আয়াত তিলাওয়াত করে। তৃতীয় ব্যক্তি যুদ্ধে সঙ্গীরা পরাজিত হলেও সামনে অটল থাকে, যতক্ষণ না সে শহীদ হয় বা বিজয় পায়। অন্যদিকে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী দরিদ্র এবং জালিম ধনীকে ঘৃণিত বলা হয়েছে। এই বর্ণনা দেখায়, গোপন দান আন্তরিকতার পরিচয় দেয়, ঘুমের প্রবল প্রয়োজনের মধ্যেও ইবাদত করা আল্লাহর সন্তুষ্টির চেষ্টা প্রকাশ করে এবং বিপদে অটল থাকা সাহসের পরিচয়। বিপরীতে ব্যভিচার, অহংকার ও সম্পদের জোরে জুলুম কঠোরভাবে নিন্দিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোপনে অভাবীকে সাহায্য করা আন্তরিক দানের উদাহরণ।
- ক্লান্তির মধ্যেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাতের ইবাদত করা প্রশংসনীয়।
- অহংকার, ব্যভিচার ও সম্পদের জোরে জুলুম কঠোরভাবে নিন্দিত।
- যুদ্ধের কঠিন অবস্থায় দায়িত্বে অটল থাকার প্রশংসা করা হয়েছে।
