৩৮/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬১১ - ঈমানের চার নির্দেশ ও দ্বীনের দাওয়াত
ঈমানের মৌলিক বিষয়ের সাথে ফরয কাজসমূহ সংশ্লিষ্ট
ঈমানের পরিচয় ও আব্দাদাত, সালাত, জাকাত ও গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ দেওুল কাইস প্রতিনিধিদলের চার দায়িত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬১১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬১১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالُوا إِنَّا هَذَا الْحَىَّ مِنْ رَبِيعَةَ وَلَسْنَا نَصِلُ إِلَيْكَ إِلاَّ فِي أَشْهُرِ الْحَرَامِ فَمُرْنَا بِشَيْءٍ نَأْخُذُهُ عَنْكَ وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا . فَقَالَ «آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ الإِيمَانِ بِاللَّهِ ثُمَّ فَسَّرَهَا لَهُمْ شَهَادَةَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامَ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ».حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو جَمْرَةَ الضُّبَعِيُّ اسْمُهُ نَصْرُ بْنُ عِمْرَانَ . وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ أَيْضًا وَزَادَ فِيهِ أَتَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ .سَمِعْتُ قُتَيْبَةَ بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ مِثْلَ هَؤُلاَءِ الأَشْرَافِ الأَرْبَعَةِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَعَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيِّ وَعَبْدِ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيِّ . قَالَ قُتَيْبَةُ كُنَّا نَرْضَى أَنْ نَرْجِعَ مِنْ عِنْدِ عَبَّادٍ كُلَّ يَوْمٍ بِحَدِيثَيْنِ وَعَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ هُوَ مِنْ وَلَدِ الْمُهَلَّبِ بْنِ أَبِي صُفْرَةَ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আব্দুল কাইস বংশের একটি প্রতিনিধিদল এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলে, আমরা রাবীআ বংশের লোক। আমরা আপনার নিকট হারাম মাসগুলো ছাড়া আসতে পারি না। সুতরাং আমাদেরকে এমন কতগুলো বিষয়ের আদেশ করুন, যা আমরা ধারণ করতে পারি এবং যারা আমাদের পিছনে আছে তাদেরকেও সেগুলোর দা’ওয়াত দিতে পারি। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ করছিঃ আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনয়ন, তারপর এই কথার ব্যাখ্যা করে বললেনঃ এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই, আমি আল্লাহ্র রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত দেয়া এবং গানীমাতের সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (বাইতুল মালে) প্রদান করা।
কুতাইবাহ্-হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি আবূ হামযা হতে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে তিনি নাবী (ﷺ) হতে এই সূত্রে উপরের হাদীসের মতো বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হামযা আয্-যুবাঈর নাম নাসর ইবনু ‘ইমরান। এই হাদীসটি আবূ হামযার সূত্রে শু‘বাহ (রহঃ)ও বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে এভাবে আছে, তোমরা কি অবগত আছো যে, ঈমান কি? এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল..... তারপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কুতাইবা ইবনু সা’ঈদ বলেন, আমি নিম্নবর্ণিত চারজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ফাকীহ্র মতো আর দেখিনিঃ মালিক ইবনু আনাস, আল-লাইস ইবনু সা’দ, ‘আব্বাদ ইবনু আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী ও ‘আব্দুল ওয়াহ্হাব আস্-সাকাফী (রহঃ)। কুতাইবাহ্ আরো বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট যে, আমরা প্রতি দিন আব্বাদ ইবনু ‘আব্বাদের নিকট হতে দুটি করে হাদীস সংগ্রহ করে ফিরবো। ‘আব্বাদ হলেন আল-মুহাল্লাব ইবনু আবূ সুফ্রার বংশধর।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬১১-এর সারসংক্ষেপ
আব্দুল কাইস বংশের প্রতিনিধিরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এমন কিছু সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা চেয়েছিলেন, যা তারা মনে রাখতে এবং নিজেদের এলাকার মানুষকে শেখাতে পারবেন। নবীজি তাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দেন। প্রথমে আল্লাহর প্রতি ঈমানের কথা বলেন এবং এর ব্যাখ্যায় আল্লাহর একত্ব ও নিজের রিসালাতের সাক্ষ্য উল্লেখ করেন। এরপর সালাত প্রতিষ্ঠা, জাকাত প্রদান এবং গনীমতের সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাদিসটি দেখায় যে, দ্বীনি শিক্ষা এমনভাবে দেওয়া উচিত যাতে মানুষ তা বুঝতে, মনে রাখতে এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। এখানে ঈমান শুধু মনে বিশ্বাসের কথা হিসেবে আসেনি; শাহাদাত, সালাত, জাকাত ও আর্থিক দায়িত্বের মাধ্যমে তার প্রকাশও দেখানো হয়েছে। প্রতিনিধিদল নিজেরা শেখার পাশাপাশি পেছনে থাকা মানুষদের দাওয়াত দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনি শিক্ষা সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্টভাবে শেখা এবং মনে রাখা উপকারী।
- আল্লাহর একত্ব ও রাসূলের স্বীকৃতি ঈমানের মৌলিক প্রকাশ।
- সালাত ও জাকাত বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- সঠিক শিক্ষা নিজে মানার পাশাপাশি অন্যদের কাছেও পৌঁছানো যায়।
