৩৮/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬১৩ - নারীদের সদকা, কৃতজ্ঞতা ও সাক্ষ্যের ব্যাখ্যা
ঈমানের পূর্ণতা ও হ্রাসবৃদ্ধি
নারীদের সদকার নির্দেশ ও দ্বীনের কমতির সঠিক ব্যাখ্যা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬১৩
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، هُرَيْمُ بْنُ مِسْعَرٍ الأَزْدِيُّ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ خَطَبَ النَّاسَ فَوَعَظَهُمْ ثُمَّ قَالَ «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ " . فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ وَلِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ «لِكَثْرَةِ لَعْنِكُنَّ " . يَعْنِي وَكُفْرَكُنَّ الْعَشِيرَ . قَالَ «وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذَوِي الأَلْبَابِ وَذَوِي الرَّأْىِ مِنْكُنَّ " . قَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ وَمَا نُقْصَانُ دِينِهَا وَعَقْلِهَا قَالَ «شَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ مِنْكُنَّ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ وَنُقْصَانُ دِينِكُنَّ الْحَيْضَةُ تَمْكُثُ إِحْدَاكُنَّ الثَّلاَثَ وَالأَرْبَعَ لاَ تُصَلِّي " .وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ حَسَنٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনতার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাসীহাতপূর্ণ খুতবা প্রদান করেন এবং বলেনঃ হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা বেশি পরিমাণে দান-খয়রাত কর। কেননা, জাহান্নামে তোমাদের সংখ্যাই বেশি হবে। তাদের মধ্যকার এক মহিলা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! তা কেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে অভিশাপ দানের প্রবণতার আধিক্যের কারণে, অর্থাৎ- তোমাদের স্বামীদের অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞ হবার কারণে।তিনি আরো বলেনঃ আমি তোমাদের স্বল্পবুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে সংকীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বুদ্ধিমান বিচক্ষণদের উপর বিজয়ী হতে পারঙ্গম আর কাউকে দেখিনি। জনৈকা মহিলা প্রশ্ন করলো, তার বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে কমতি হলো কি করে? তিনি বললেনঃ তোমাদের দুজন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। এটা হলো বুদ্ধির স্বল্পতা। আর তোমাদের হায়েজ (ঋতুস্রাব) হলে তিন-চার দিন তোমরা নামাজ আদায় কর না। এটা হলো দ্বীনের স্বল্পতা।
আবূ সা’ঈদ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সনদ সূত্রে গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬১৩-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নারীদের বেশি দান-খয়রাত করতে বলেন এবং জাহান্নামে তাদের সংখ্যা বেশি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। কারণ হিসেবে বেশি অভিশাপ দেওয়া এবং স্বামীর অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বুদ্ধি ও দ্বীনের কমতির বক্তব্যের ব্যাখ্যাও হাদিসের মধ্যেই দেওয়া হয়েছে। বুদ্ধির কমতি বলতে এখানে নির্দিষ্ট সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে দুই নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। দ্বীনের কমতি বলতে ঋতুস্রাবের সময় কয়েক দিন নামাজ না পড়ার অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। তাই এই ভাষাকে নারীর সব ধরনের জ্ঞান, যোগ্যতা বা মর্যাদা অস্বীকার করার সাধারণ বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। হাদিস নিজেই আলোচ্য কমতিকে দুটি নির্দিষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছে। মূল আহ্বান হলো সদকা করা, অভিশাপ থেকে বাঁচা এবং উপকারের প্রতি অকৃতজ্ঞ না হওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সদকা করা গুনাহ থেকে বাঁচার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে উৎসাহিত হয়েছে।
- অভিশাপ দেওয়া ও উপকার অস্বীকার করার অভ্যাস থেকে বাঁচা দরকার।
- বুদ্ধির কমতি এখানে নির্দিষ্ট সাক্ষ্য-ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- দ্বীনের কমতি বলতে হায়েজের সময় নামাজ না পড়ার নির্দিষ্ট অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
