৩৯/১৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৮২ - ইলম অন্বেষণ ও আলিমের মর্যাদা
জ্ঞানের মর্যাদা ‘ইবাদতের চাইতেও বেশি
ইলম অন্বেষণের ফজিলত ও আলিমরা নবীদের ওয়ারিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৮২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৮২
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ قَدِمَ رَجُلٌ مِنَ الْمَدِينَةِ عَلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ وَهُوَ بِدِمَشْقَ فَقَالَ مَا أَقْدَمَكَ يَا أَخِي فَقَالَ حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ أَمَا جِئْتَ لِحَاجَةٍ قَالَ لاَ. قَالَ أَمَا قَدِمْتَ لِتِجَارَةٍ قَالَ لاَ.قَالَ مَا جِئْتَ إِلاَّ فِي طَلَبِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَبْتَغِي فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانُ فِي الْمَاءِ وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا إِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَ بِهِ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ».قَالَ أَبُو عِيسَى وَلاَ نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ وَلَيْسَ هُوَ عِنْدِي بِمُتَّصِلٍ هَكَذَا حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ. وَإِنَّمَا يُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ جَمِيلٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ مَحْمُودِ بْنِ خِدَاشٍ وَرَأَى مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ هَذَا أَصَحَّ .
কাইস ইবনু কাসীর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি মদীনা হতে দামিশকে (অবস্থানরত) আবু দারদা (রাঃ)-এর নিকট এলো। তিনি প্রশ্ন করলেন, ভাই! তুমি কি প্রয়োজনে এসেছো? সে বলল, একটি হাদীসের জন্য এসেছি। আমি জানতে পারলাম যে, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে সেই হাদীস বর্ণনা করছেন। তিনি আবারো প্রশ্ন করলেন, তুমি অন্য কোন প্রয়োজনে আসনি? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কোন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসনি? সে বলল, না; সে আরো বলল, আমি শুধুমাত্র সেই হাদীসটির খোঁজেই এসেছি।এবার তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ ‘ইলম লাভের উদ্দেশ্যে যে লোক পথ চলে আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাকে জান্নাতের পথে পৌঁছে দেন এবং ফেরেশতাগণ ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর আসমান-যমীনের সকল প্রাণী (আল্লাহ তা‘আলার নিকট) আলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির জগতের মাছসমূহও। সমস্ত নক্ষত্ররাজির উপর পূর্ণিমার চাঁদের যে প্রাধান্য, ঠিক তেমনি (মূর্খ) আবিদগণের উপর আলিমদের মর্যাদা বিদ্যমান। অবশ্যই আলিমগণ নবীদের ওয়ারিস। আর নবীগণ উত্তরাধিকার হিসেবে কোন দীনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তাঁরা রেখে গেছেন মীরাস হিসেবে ‘ইলম। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম লাভ করেছে, সে পূর্ণ অংশ লাভ করেছে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়ার রিওয়ায়াত হিসেবেই জেনেছি। আমার মতে এই সনদসূত্র মুত্তাসিল নয়। উক্ত হাদীসটি মাহ্মূদ ইবনু খিদাশও আমাদের নিকট অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। আসিম ইবনু রাজা ইবনু হাইওয়া-ওয়ালীদ ইবনু জামিল হতে, তিনি কাসীর ইবনু কাইস হতে, তিনি আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে এই সূত্রেও উক্ত হাদীস বর্ণিত আছে। এই সনদসূত্রটি মাহমূদ ইবনু খিদাশের বর্ণনার চাইতে অনেক বেশি সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) ও এই সনদকে অধিক সহীহ মনে করেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইলম অন্বেষণের ফজিলত খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি শুধু একটি হাদিস শেখার জন্য মদীনা থেকে দামিশকে গিয়েছিলেন। এতে জ্ঞান অর্জনের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা বোঝা যায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলমের উদ্দেশ্যে পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করেন। ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ডানা বিছিয়ে দেন। আসমান-জমিনের প্রাণী, এমনকি পানির মাছও আলিমের জন্য ক্ষমা চায়। হাদিসে আলিমের মর্যাদাকে অন্যান্য নক্ষত্রের ওপর পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, আলিমরা নবীদের ওয়ারিস। নবীরা অর্থ-সম্পদ নয়, ইলম রেখে গেছেন। তাই যে ব্যক্তি এই জ্ঞান গ্রহণ করে, সে বড় একটি অংশ লাভ করে। হাদিসটি জ্ঞান শেখা, সংরক্ষণ করা এবং মূল্য দিয়ে গ্রহণ করার অনুপ্রেরণা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইলম শেখার জন্য চেষ্টা ও পথচলা জান্নাতের পথ সহজ হওয়ার কারণ হতে পারে।
- ইলম অন্বেষণকারী ফেরেশতাদের সম্মান ও সন্তুষ্টি লাভ করে।
- আলিমের মর্যাদা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের চেয়ে বিস্তৃত উপকারের সঙ্গে যুক্ত।
- নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকার হলো ইলম, অর্থ-সম্পদ নয়।
