৪১/৫৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮২৪ - নারী, ঘর ও জন্তু প্রসঙ্গে কুলক্ষণ
কুলক্ষণ সম্পর্কে
ইসলামে কুলক্ষণ: নারী, ঘর ও জন্তু প্রসঙ্গে হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮২৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮২৪
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، وَحَمْزَةَ، ابْنَىْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " الشُّؤْمُ فِي ثَلاَثَةٍ فِي الْمَرْأَةِ وَالْمَسْكَنِ وَالدَّابَّةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَبَعْضُ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ لاَ يَذْكُرُونَ فِيهِ عَنْ حَمْزَةَ إِنَّمَا يَقُولُونَ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.وَرَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ فَقَالَ عَنْ سَالِمٍ وَحَمْزَةَ ابْنَىْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِمَا وَهَكَذَا رَوَى لَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ وَحَمْزَةَ ابْنَىْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (কুলক্ষণ সম্পর্কে কিছু থাকলে) এ তিনটিতে থাকতোঃ১. নারী২. ঘর ও ৩. জন্তু।
আবূ ‘ঈসা বলেন, ও হাদিসটি হাসান সহীহ। ইমাম বুখারীর কিছু শিষ্য অত্র হাদীসের সনদে বর্ণনাকারী হামযার উল্লেখ করেননি। তারা এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ সালিম-তার বাবা হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে একইভাবে ইবনে আবি ‘ঊমারও এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন সুফিইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে, তারা যুহরী হতে তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর পুত্রদ্বয় সালিম ও হামযা-তাদের বাবা হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। সাঈদ ইবনু ‘আবদুর রহমান সুফিইয়ান হতে তিনি যুহরী হতে তিনি সালিম (রাঃ) হতে তার বাবার সুত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের সমর্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ সুত্রে সাঈদ ইবনু ‘আবদূর রাহমান হামযা হতে এভাবে উল্লেখ করেননি। সা’ঈদের রিওয়ায়াত অধিকতর সহীহ। কেননা ‘আলী ইবনুল মাদীনী ও হুমাইদী (রাঃ) সুফইয়ানের সুত্রে বর্ণনা করেছেন। যুহরী আমাদের নিকট এ হাদীস শুধুমাত্র সালিম-ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সুত্রেই বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) এ হাদিসটি যুহরীর সুত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর পুত্রদ্বয় সালিম ও হামযা হতে –তাদের বাবার সুত্রে। এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সা’দ, আয়িশাহ ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। অধিকন্তু নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “কোন কিছুতে কুলক্ষণ বলতে থাকলে নারী, জন্তু ও ঘরের মধ্যেই থাকতো”। তাছাড়া হাকীম ইবনু মু’আবিয়া (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে কখনো কখনো ঘর, নারী ও ঘোড়ার মধ্যে শুভ লক্ষণ (বারাকাহ) দেখা যায়। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৯৩০) ‘আলী ইবনে হুজর-ই’সমাইল ইবনু আইয়্যাশ হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু সুলাইম হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু জাবির আত-তাঈ হতে, তিনি মু’আবিয়া ইবনু হাকীম হতে, তিনি তার চাচা হাসান ইবনু মু’আবিয়া (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। “কোন বস্তুতে কুলক্ষণ থাকলে” অংশসহ হাদীসটি সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ঐ অংশ ব্যতীত হাদীসটি শাযঃ সহীহাহ (৪৪৩, ৭৯৯, ১৮৯৭)
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮২৪-এর সারসংক্ষেপ
হাদিসটির মূল বিষয় কুলক্ষণ। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কুলক্ষণ সম্পর্কে কিছু থাকলে তা নারী, ঘর ও জন্তুর মধ্যে থাকত। অনুবাদের বন্ধনীর ভাষা—“কিছু থাকলে”—খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্ণনাটি একটি শর্তযুক্ত ভঙ্গিতে এসেছে। তাই এই হাদিস পড়ে কোনো নারী, কোনো নির্দিষ্ট বাড়ি বা কোনো পশুকে নিজের ধারণা থেকে নিশ্চিত অমঙ্গলের উৎস বলা ঠিক হবে না। হাদিসে যে তিনটি বিষয় উল্লেখ আছে, ব্যাখ্যাও সেই সীমার মধ্যে রাখা দরকার। এটি মানুষের জীবনে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত তিনটি ক্ষেত্রের কথা বলে, কিন্তু প্রতিটি নারী, প্রতিটি ঘর বা প্রতিটি জন্তু সম্পর্কে একই সিদ্ধান্ত দেয় না। সহজভাবে বলতে গেলে, বর্ণনার শব্দ মেনে পড়তে হবে; ভয়, কুসংস্কার বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে হাদিসের নামে বাড়িয়ে বলা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসের শর্তযুক্ত ভাষা ঠিকভাবে বোঝা জরুরি।
- নারী, ঘর বা জন্তুকে নিজের ধারণায় নিশ্চিত অমঙ্গলের উৎস বলা উচিত নয়।
- বর্ণনায় যতটুকু বলা হয়েছে, ব্যাখ্যাও ততটুকু সীমিত রাখা দরকার।
