২/৯৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৩ - ইকআ বসা ও সুন্নতের বর্ণনা
ইকার অনুমতি
ইকআ বসা: ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় সুন্নত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا، يَقُولُ قُلْنَا لاِبْنِ عَبَّاسٍ فِي الإِقْعَاءِ عَلَى الْقَدَمَيْنِ قَالَ هِيَ السُّنَّةُ . فَقُلْنَا إِنَّا لَنَرَاهُ جَفَاءً بِالرَّجُلِ قَالَ بَلْ هِيَ سُنَّةُ نَبِيِّكُمْ ﷺ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ لاَ يَرَوْنَ بِالإِقْعَاءِ بَأْسًا وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ مَكَّةَ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ وَالْعِلْمِ . قَالَ وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ الإِقْعَاءَ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ .
তাউস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে ইক্ব’আ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এটা সুন্নাত। আমরা বললাম, এতে আমরা পায়ে ব্যথা পাই। তিনি আবার বললেন, এটা তোমাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাত।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। কিছু জ্ঞানী সাহাবা (রাঃ) এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। তাঁরা ইক্ব’আয় (দুই পায়ের পাতা খাড়া রেখে তার উপর নিতম্ব রেখে বসাতে) কোন সমস্যা দেখেন না। মক্কার কোন কোন ফিক্হবিদেরও এই মত। কিন্তু বেশিভাগ বিদ্বান দুই সাজদাহ্র মাঝখানে এভাবে বসা মাকরূহ মনে করেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইকআ নিয়ে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্য এসেছে। তাঁকে ইকআ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি সুন্নত। প্রশ্নকারীরা বলেন, এতে পায়ে কষ্ট হয় বলে মনে হয়। তখন তিনি আবার বলেন, এটি তোমাদের রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নত। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কোনো আমলকে শুধু নিজের অভ্যাস বা আরামের দৃষ্টিতে না দেখে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বর্ণিত পদ্ধতির আলোকে দেখা। তবে এই হাদিসের ভাষা শুধু ইকআ সম্পর্কে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্য জানাচ্ছে; এর বাইরে অন্য কোনো ভঙ্গি বা বিধান এখানে যোগ করা ঠিক হবে না। নামাজের বসার নিয়ম, দুই সিজদার মাঝের বৈঠক এবং সুন্নত অনুসরণ—এসব বিষয় বুঝতে এই হাদিস গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবনু আব্বাস (রাঃ) ইকআকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নত বলেছেন।
- নিজের কষ্টের ধারণা থাকলেও সুন্নতের বর্ণনাকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- নামাজের ভঙ্গি সম্পর্কে সাহাবীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হতো।
- কোনো আমল বুঝতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনার দিকে ফিরে যাওয়া দরকার।
