৪২/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৩ - সূরা বাকারা ও আলে ইমরানের কিয়ামতের মর্যাদা
সূরা আল-ইমরানের ফযিলত
কুরআন অনুযায়ী আমল: সূরা বাকারা ও আলে ইমরানের মর্যাদা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৮৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৮৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ الْعَطَّارِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ نَوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " يَأْتِي الْقُرْآنُ وَأَهْلُهُ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِهِ فِي الدُّنْيَا تَقْدُمُهُ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَآلُ عِمْرَانَ " . قَالَ نَوَّاسٌ وَضَرَبَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَلاَثَةَ أَمْثَالٍ مَا نَسِيتُهُنَّ بَعْدُ قَالَ " تَأْتِيَانِ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ وَبَيْنَهُمَا شَرْقٌ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ سَوْدَاوَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا ظُلَّةٌ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُجَادِلاَنِ عَنْ صَاحِبِهِمَا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يَجِيءُ ثَوَابُ قِرَاءَتِهِ كَذَا فَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا الْحَدِيثَ وَمَا يُشْبِهُ هَذَا مِنَ الأَحَادِيثِ أَنَّهُ يَجِيءُ ثَوَابُ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ. وَفِي حَدِيثِ النَّوَّاسِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مَا يَدُلُّ عَلَى مَا فَسَّرُوا إِذْ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " وَأَهْلُهُ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِهِ فِي الدُّنْيَا " . فَفِي هَذَا دِلاَلَةٌ أَنَّهُ يَجِيءُ ثَوَابُ الْعَمَلِ.
নাও্ওয়াস ইবনু সাম’আন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামাতের দিবসে কোরআন ও কোরআনের ধারক-বাহকগণ যারা দুনিয়াতে তদনুযায়ী ‘আমাল করবে এমন ভাবে হাযির হবে যে, সূরা আল-বাক্বারাহ্ ও আল ‘ইমরান তাদের আগে আগে থাকবে। নাওওয়াস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সূরা দু‘টি আগমনের তিনটি উদাহরণ দিয়েছিলেন, আমি সেগুলো এখনও ভুলিনি। তিনি বলেনঃ(১) এ সূরা দু‘টি ছায়ার মত আসবে, আর এতদুভয়ের মাঝে থাকবে আলো।(২) অথবা এ দু‘টি কালো মেঘ খন্ডের ন্যায়(৩) অথবা ডানা বিস্তার করে ছায়াদানকারী পাখীর ন্যায় আসবে এবং তাদের সাথীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক করবে।
বুরাইদাহ্ ও আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং এই সূত্রে গারীব। আলিমগণের মতে এ হাদীসের তাৎপর্য এই যে, কেয়ামাতের দিবসে উক্ত সূরা দু‘টির সাওয়াব এভাবে এসে হাযির হবে। কোন কোন আলিম এই হাদীস এবং এমন বক্তব্য সম্বলিত অন্যান্য হাদীসের ব্যাখ্যায় এ কথাই বলেছেন। নাওওয়াস ইবনু সাম‘আন (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে নাবী (ﷺ) বলেছেনঃ “কোরআন এবং যারা দুনিয়াতে কোরআনের উপর ‘আমাল করত তারা হাযির হবে” এ বাক্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ‘আমালের সাওয়াবই হাযির হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শুধু কুরআন পড়ার কথা নয়, কুরআন অনুযায়ী আমল করার কথাও স্পষ্টভাবে এসেছে। কিয়ামতের দিনে কুরআন এবং সেই মানুষদের হাজির করা হবে, যারা দুনিয়ায় কুরআনের নির্দেশ মেনে চলেছে। সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে ইমরান তাদের আগে থাকবে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এ দুই সূরার আগমনের তিনটি ছবি তুলে ধরেছেন: আলোর ফাঁকসহ দুই ছায়া, দুই কালো মেঘখণ্ড অথবা ডানা মেলে ছায়া দেওয়া পাখির দল। তারা তাদের সাথীর পক্ষে কথা বলবে। বর্ণনার শেষ অংশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এর দ্বারা কুরআন পাঠ এবং সে অনুযায়ী আমলের সওয়াবের আগমন বোঝানো হয়েছে। তাই মূল শিক্ষা হলো তিলাওয়াতের সঙ্গে আমলকে যুক্ত করা। কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল মুখে পড়ায় সীমিত না রেখে জীবনে তার নির্দেশ মানার চেষ্টা করতে হবে। সূরাগুলো পড়ার পাশাপাশি সেগুলোর শিক্ষা জানা এবং নিজের আচরণে প্রয়োগের চেষ্টা করাই হাদিসের বক্তব্যের সঙ্গে বেশি মিল রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন তিলাওয়াতের সঙ্গে কুরআন অনুযায়ী আমল করাও জরুরি।
- সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তাদের সাথীর পক্ষে কথা বলবে।
- হাদিসের উপমাগুলো এ দুই সূরার বিশেষ মর্যাদা বোঝায়।
- কুরআনের সওয়াব ও আমল কিয়ামতের দিনে উপকারের কারণ হবে।
